মার্কিন মুলুকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ১১ লক্ষরে গণ্ডি। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষের। এই অবস্থায় একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিও। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় জরুরী প্রয়োজনে 'রেমডেসিভির' ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হল। আমেরিকায় এর আগে ওষুধটি পরীক্ষামূলক ব্যবহারে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রেমডেসিভিরের কার্যকারিতার  সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ-এর পরিচালক এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউচি। একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বনামধন্য বিজ্ঞানী বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে রেমডেসিভির গ্রহণকারীরা অন্যদের তুলনায় কম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে এই ওষুধ মৃত্যুহার কমাতে ভূমিকা রাখে কিনা, তা এখনও প্রমাণিত নয়। এর কয়েকদিনের মাথায় জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেল ওষুধটি।

করোনা মরবে সূর্যের আলোয়, ভরসা রেখে এবার শুরু হল রোদ থেরাপি

আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ লক্ষ ছাড়াল, মহামারীর বিশ্বে মিরাকল ঘটিয়ে এখনও সংক্রমণ মুক্ত ৩৩টি দেশে

উহানের ভাইরোলজির ল্যাবেই করোনার উৎপত্তি, গোয়েন্দা রিপোর্টে রয়েছে প্রমাণ, দাবি ট্রাম্পের

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ওষুধ তৈরি করা সংস্থা  গিলিড সায়েন্স–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেন ও'ডেকে সঙ্গে নিয়ে এই বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এর আগে মার্কিন বিজ্ঞানীরা 'রেমডেসিভির'–এর কার্যকারিতার বিষয়ে হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছিল। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হিসেবে এই ওষুধের কার্যকারিতার প্রমাণের পর একেবারে আশঙ্কাজনক রোগীদের ক্ষেত্রে 'রেমডেসিভির' ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে এফডিএ–এর অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রে ডাক্তারেরা এখন থেকে এই ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারবেন।

 

 

'রেমডেসিভির' অনুমোদন দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এই ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে কথা বলেছেন। টাস্কফোর্সের সদস্য অ্যান্থনি ফউসি ও দেবোরাহ ব্রিক্স ছাড়াও এফডিও প্রধান স্টিফেন হাহন ওষুধ অনুমোদনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত বিশ্বে কোনও  অনুমোদিত ওষুধ নেই।  বিভিন্ন দেশ কার্যকর ওষুধ নিয়ে গবেষণা করে চলেছে। এরই একটি হলো রেমডেসিভির। গিলিড সায়েন্সেস-এর তৈরি এই ওষুধটি অতীতে ইবোলার বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হলেও তেমন সফলতা মেলেনি। তবে বিভিন্ন সময়ে পশুর শরীরে চালানো বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, সার্স ও মার্স-এর মতো করোনা প্রজাতির ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এই ওষুধ কার্যকর হতে পারে। তাই এবার করোনাপ্রজাতির নতুন ভাইরাস কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের চিকিৎসায় রেমডেসিভির কার্যকর কিনা তা নিয়ে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ পরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে সদ্যপ্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক খসড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চিনে চালানো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রেমডেসিভিরের কার্যকরিতা প্রমাণিত হয়নি।