অবৈধ দখলদারদের সরাতে গিয়েছিল পুলিশ। আর তার জেরেই জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল হায়দরাবাদের জওহরনগর থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর বীক্ষাপতি রাও-কে। হামলা করা হয়েছিল অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদেরও। ওই ভয়ঙ্কর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর), ৪ মহিলা-সহ ১৬ জন জমি দখলদারকে গ্রেফতার করেছে রাঁচাকোন্ডা পুলিশের একটি বিশেষ দল। ওই মহিলাদের বয়স ২৬ থেকে ৪০-এর মধ্যে। ঘটনার দিনই এক দম্পতিকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ।
 
গত সপ্তহের ঘটনাটি আলোড়ন ফেলেছিল গোটা দেশেই। হায়দরাবাদের জওহরনগর পৌরসভা এলাকায় ১.২০ একর জমি দখল করে রেখেছিল অবৈধ দখলদাররা। দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেই জমি পুনর্দখল করতে পুলিশের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়েছিল পুরসভা। অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীক্ষাপতি রাও। কিন্তু, জমি দখমুক্ত করতে যেতেই তাদের উপর ভয়ঙ্কর প্রতিরোধ নেমে আসে। পুর প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশ্য করে লঙ্কার গুঁড়ো ছোঁড়া হয়। এই অবস্থায় উচ্ছেদকার্য পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে কাউকে আটকা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আগুনে বাড়ির ভিতরে গিয়েছিলেন জওহর নগর পরিদর্শক পি বিকাশপাঠি রাও, বৃহস্পতিবার গুরুতর দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। রাঁচাকান্দার পুলিশ কমিশনার মহেশ ভাগবত জানিয়েছেন যে কোনও ষড়যন্ত্র হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে। বৃহস্পতিবার জওহর নগর পৌর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে জওহর নগর পুলিশ বালাজী নগরে সুরক্ষা দিতে গিয়েছিল, যেহেতু রাজস্ব কর্তৃপক্ষ সরকারী জমির এক টুকরোয় দখল অপসারণের পরিকল্পনা করেছিল।

এদিকে, একটির বাড়িতে আগুন লাগতে দেখেছিলেন  ইন্সপেক্টর বীক্ষাপতি রাও। কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করছে মনে করে তিনি দরজা ভেঙে সেই বাড়ির ভিতরে ঢুকেছিলেন। ভিতরে এক দম্পতি থাকলেও তাঁরা আগুনে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্থ ছিলেন না। কিন্তু, বাড়ির দরজা দিয়ে পায়ে আগুন লাগা অবস্থায় দৌড়ে বেরিয়ে আসেন ওই পুলিশ ইন্সপেক্টর। অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা অনেক কষ্টে সেই আগুন নেভালেও, তাঁর হাত-পা পুড়ে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে তাঁর দেহের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সেকান্দরাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি ভর্তি আছেন। পরে জানা যায় ইন্সপেক্টরের দিকে কোনও জ্বালানি ছুঁড়ে মেরেছিল ওই দম্পতি।