সংখ্যাটা ছিল ৪৯। কিন্তু, তাদের হেনস্থা করতে যেতেই সংখ্যাটা আরও ১৮০ জন বেড় গেল। ভারতে ক্রমে গণহিংসার ঘটনা বাড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন মণিরত্নম, অপর্ণা সেন, অনুরাগ কাশ্যপরা। যার জেরে সম্প্রতি বিহারের মুজফ্ফরপুরে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইার দায়ের হয়েছে। আর এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে ফের একবার খোলা চিঠি দিলেন বিশিষ্টজনরা।

অপর্ণাদের পাশে দাঁড়িয়ে এবার খোলা চিঠি লিখলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, রোমিলা থাপাররা। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, চাপ দিয়ে তাঁদের চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না। ৪৯ জন বিদ্বজ্জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে সাফ জানিয়েছেন, নাগরিকদের চুপ করাতে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করা হচ্ছে। এত কিন্তু প্রতিদিন আরও আরও মানুষ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেবেন। সেই সঙ্গে আগের চিঠিটির বক্তব্যকে তাঁরা সমর্থন করছেন বলেও জানিয়েছেন।

এই বিশিষ্ট ১৮০ জনের মধ্যে নাসিরুদ্দিন শাহ, রোমিলা থাপার ছাড়া আছেন, সিনেমাটোগ্রাফার আনন্দ প্রধান, সমাজকর্মী হর্ষ মান্দার, লেখক অশোক বাজপেয়ী, জেরি পিন্টো, শিক্ষাবিদ ইরা ভাস্কর, কবি জিৎ ঠাইল, সুরকার টিএম কৃষ্ণ প্রমুখ।

এর আগে জুলাই মাসের শেষ দিকে মণি রত্নম, অপর্ণা সেন, শ্যাম বেনেগাল, শুভা মুদগলরা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। তাঁরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন দেশ জুড়ে গণহিংসার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে। সেই সঙ্গে জয় শ্রীরাম ধ্বণি হত্যার হুঙ্কারে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। গত ৩ অক্টোবর বিহারের মুজফ্ফরপুরে ওই চিঠিতে সাক্ষর করা ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, অশান্তি বাধানোর চেষ্টা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।

গত জুলাইতে মণি রত্নমরা চিঠি দেওয়ার পর কঙ্গনা রানাওয়াতদের মতো আরও ৬১ জন পাল্টা চিঠি দিয়েছিলেন। এবার নাসিরুদ্দিনদের পাল্টা চিঠি আসে কিনা সেটাই দেখার।