খাবার ছুঁয়ে দিয়েছিল। এটাই ছিল অপরাধ। আর সেই এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগে দুই উচ্চবর্ণের যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যে লাঠি গিয়ে পিঠিয়ে মারা হয়েছিল দলিত যুবককে সেই লাঠিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অভিযুক্তদের মোটরবাইকও।  মর্মান্তিক এই ঘটনার সাক্ষী  ছিল মধ্যপ্রদেশের ছাত্তারপুর জেলার বাসিন্দারা। গত ২রা ডিসেম্বরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দলিত যুবককে মারধর করা হয়। তারপর তার ক্ষতবিক্ষত দেহটি বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে যাওয়া হয় বলেই অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু মৃত্যুর আগে নিহত দলিত যুবক দুই অভিযুক্তের নাম জানিয়ে দিয়েছিল। এই হিংসাত্মক ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে মধ্য প্রদেশের শিবরাজ সিং চৌহান। 

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ ডিসেম্বর। মৃতের ভাই জানিয়েছে, তাঁর ভাই দেবরাজ অনুরাগি বাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছিল। সেইসময় তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তাঁর বন্ধু সন্তোষ পাল ও রোহিত সোনি। তারকিছুক্ষণ পরেই দেবরাজের ক্ষতবিক্ষত দেহ বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার হয়। সেই সময় দেবরাজ জানিয়েছিল, সে সন্তোষ ও রোহিততের খাবার ছুঁয়ে দিয়েছিল। তাতেই দুই বন্ধু মেজাজ হারিয়ে তাদের মারধর করে। লাঠি দিয়ে পেঠান হয় বলেও অভিযোগ করে সে। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে দেবরাজ। দেবরাজের দাদা জানিয়েছেন ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার পরে মাত্র ১৫ মিনিট বেঁচে ছিল তাঁর ভাই। তাঁরা সেভাবে চিকিৎসা করার সময় পর্যন্ত পাননি। এই ঘটনার পরই স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে অভিযোগ দায়ের করা ১০ দিনের মধ্যে দুই পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছ। খুনের অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে লাঠির আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা। একটানা মারধর করার কারণেই দেবরাজের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যারমধ্যে তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনেও মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে ঠাকুররা গ্রামের কাছে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে।