রঙের মিস্ত্রি হয়ে এসে তারা হাতিয়ে নিয়েছিল দেশে প্রথম দেশীয় প্রয়ুক্তিতে তৈরি বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত-এর সংবেদনশীল তথ্য ভরা চারটি হার্ড ডিস্ক এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সরঞ্জাম। কোচি শিপইয়ার্ড লিমিটেড (সিএসএল) থেকে গত বছর এই চুরির ঘটনায় মুখ পুড়েছিল ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। এক বছরের মধ্য়েই সেই চুরির ঘটনার সমাধান করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। বুধবার বিহার থেকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে বিহার থেকে গ্রেফতার করেছে তারা।

অভিযুক্ত এই দুইজনই বছর দুয়েক আগে আইএনএস বিক্রান্তেরই রঙ করার কাজজে নিযুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে এনআইএ কর্তৃপক্ষ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চুরির বিষয়ে আরও বিশদ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কোচি শিপইয়ার্ড লিমিটেড জেনারেল ম্যানেজারের এই চুরির কথা জানিয়ে কেরল পুলিশে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। রণতরীটির উচ্চ-সুরক্ষিত এলাকা থেকেই চারটি হার্ড ডিস্ক, মেমরি কার্ড, একটি প্রসেসর এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সরঞ্জাম চুরি গিয়েছিল। এমনকী প্রথমে এই চুরির কথা কেউ টেরও পাননি। তথ্য প্রযুক্তি সিস্টেমটি চুরি যাওয়ার পর বাকি সরঞ্জাম চুরির বিষয়টি সামনে এসেছিল। জাহাজে তখনও কাজ চলছিল বলে কোনও ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) নজরদারি ব্যবস্থাও ছিল না।

কেরল পুলিশ পরে এই তদন্তের ভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। এই চুরিতে ভারতের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের গুরুতর সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে উদ্বেগ ছিল সব মহলে। তাই এনআইএর নেতৃত্বে একাধিক তদন্তকারী এজেন্সি এই ঘটনার তদন্তে নেমেছিল। এনআইএ কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় শিল্প সুরক্ষা বাহিনী (সিআইএসএফ) এবং সিএসএল-এর কর্মচারী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং অন্যান্য ব্যক্তি মিলিয়ে প্রায় ১,২০০ জনেরও বেশি লোকের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু তারপরেও তদন্তের কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় তারা চুরির বিষয়ে যে কোনও প্রয়োজনীয় তথ্যের বিনিময়ে পাঁচ লক্ষ টাকার পুরষ্কারও ঘোষণা করেছিল। শেষ পর্যন্ত কীভাবে বিহারের এই দুই ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেল, তা এখনও জানানো হয়নি।

আগামী বছরই অর্থাৎ ২০২১ সালে আইএনএস বিক্রান্তের জলে নামার কথা। সেই ক্ষেত্রে ভারত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের পর ষষ্ঠ দেশ হিসাবে নৌসমরের ক্ষেত্রে এক অভিজাত ক্লাবে যোগ দেবে। এখনও পর্যন্ত উপরে উল্লেখ করা এই পাঁচটি দেশেরই নিজস্ব বিমানবাহী রণতরী রয়েছে।