জরুরী অবস্থা জারির পরপরই ইন্দিরা গান্ধী সরকার প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতাদের কারাবন্দি করেছিল। আর সেইসঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর মতো সংগঠনগুলিকে। আরএসএস-এর প্রায় সব বড় নেতাকেও জেলে বন্দি করা হয়েছিল। তবে ইন্দিরা সরকার ধরতে পারেনি একজনকে, নরেন্দ্র দামোদর মোদী। সেইসময় অবশ্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই অর্থে নেতা ছিলেন না। তবে তাঁরও গ্রেফতারের ঝুঁকি ছিল।  

১৯৭৫ সালে ২৫ বছরের তরুণ নরেন্দ্র মোদী নেহাতই আরএসএস-এর একজন প্রচারক ছিলেন। তবে জরুরী অবস্থার ২১ মাসই তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল। একজন সাধারণ প্রচারক থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সংঘ নেতাদের নয়নের মণি। আর তার জন্য একবার মুখ ভর্তি দাড়ি-গোঁফ, মাথায় পাগরি, গালে গালপাট্টা লাগিয়ে শিখ সাজতে হয়েছিল তাঁকে।

সেই সময় আরএসএস-এর বড় নেতারা জেলে। তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রচারকদেরও গ্রেফতার করবে পুলিশ। সেইসঙ্গে আরএসএ নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়ায়, তাদের প্রকাশিত বই, পত্র-পত্রিকাও নিষিদ্ধ। জেলে বন্দি থাকা নেতাদের বার্তাবাহক হিসাবে কাজ করতেন নরেন্দ্র মোদী। সেইসঙ্গে সংঘের বিভিন্ন বই, পত্র-পত্রিকাও বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিতেন। এই কাজেই একবার দিল্লি আসার সময় ওই শিখ-এর বেশ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর একটি ছদ্মনামও ছিল, 'প্রকাশ'।

তবে শুধু শিখ-এর বেশই নয়, জরুরী অবস্থার সময়ে একবার সন্ন্যাসী-ও সাজতে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। জন সংঘের বিশিষ্ট নেতা জর্জ ফার্নান্ডেজ-কে তিনি ওই বেশেই পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

নেতা-কর্মীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, বার্তাবাহকের কাজ, পুলিশ কে ফাঁকি দিয়ে গোপনে সভা আয়োজন করা - জরুরী অবস্থার ২১ মাসের পর সংঘের নেতাদের মুখে মুখে ঘুরত নরেন্দ্র মোদীর নাম। এক সাধারণ প্রচারক থেকে আরএসএস-এর এক অতি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। জরুরী অবস্থার সময়ে তাঁর কার্যক্রমে একজন চিন্তক-কে খুঁজে পেয়েছিল আরএসএস। ওই ২১ মাস বলা যেতে পারে নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উত্থানের সহায়ক হয়েছিল।