পরীক্ষা দিয়ে স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ২২ বছরের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী শুভশ্রী। কিন্তু তাঁর বাড়ি ফেরা আর হল না। মাঝপথেই তাঁর মাথায় ভেঙে পড়ল শাসক দলের বেআইনি হোর্ডিং। আর তাতে টাল সামলাতে না পেরে স্কুটি থেকে পড়ে যান শুভশ্রী। আর তারপর একটি জলের ট্যাঙ্কারের চাকা চলে যায় তার উপর দিয়ে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে চেন্নাই-এর পল্লভরম থোরাইপক্কম রেডিয়াল রোডে। তাঁর প্রাণ বাঁচাতে পথচারীরা তাঁকে দ্রুত কাছের এক হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু ডাক্তাররা জানান, নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
 
ঘটনার পর ওই জলের ট্যাঙ্কারের চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। কিন্তু, সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ শুভশ্রীর মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রশাসন ও শাসক দল। তামিলনাড়ু জুড়ে জায়গায় জায়গায় এআইএডিএমকে দল বেআইনি হোর্ডিং-এ ভরিয়ে দিয়েছে। আর তার জন্যই প্রাণ গেল এই ছাত্রীর। তবে ঘটনার সময় শুভশ্রীর মাথায় হেলমেট ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমকে দলের নেতা এমকে স্টালিন ঘটনার পরই টুইট করে শুভশ্রীর মৃত্যুর জন্য সরকারের গাফিলতি, পুলিশের দায়িত্ববোধের অভাবকে দায়ী করেছেন। এআইএডিএমকে  দলের শাসনকে 'ক্ষমতালোভি, নৈরাজ্যবাদী শাসন' বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে ২২ বছরের ওই ছাত্রীর মৃত্যুর জন্য বেআইনি হোর্ডিং লাগানোর জন্য প্রাক্তন এআইএডিএমকে কাউন্সিলর সি জয়গোপালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। চেন্নাই পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের অভিয়োগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাজ হাইকোর্ট বেআইনি ফ্লেক্স বোর্ড লাগানো রুখতে ব্যর্থ হওয়া আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার ও চেন্নাই পুরসভাকে। একই সঙ্গে শুভশ্রীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।