২৫০তম অধিবেশনের নজির গড়ল রাজ্যসভা। আর সেই নজির গড়া অধিবেশনেই দুই বিজেপি বিরোধী দলের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে। প্রথমটি ওড়িশায় নবীন পট্টনায়কের বিজু জনতা দল বা বিজেডি, আর দ্বিতীয়টি মহারাষ্ট্রে শরদ পওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে যাদের সঙ্গে জোট গড়ে মহারাষ্ট্রে এখন সরকার গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তিন দশকের বিজেপি সখ্যতা ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া শিবসেনা।  

এদিন ছিল শীতকালীন অধিবেশনের প্রথমদিন। অর এই দিনটিই ছিল রাজ্যসভার ২৫০তম অধিবেশন। এদিন এই উপলক্ষ্যে রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখেনব প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যসভা বহু ইতিহাসের সাক্ষী, বহু ইতিহাস রচনাও হয়েছে উচ্চকক্ষে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন, রাজ্যসভা দ্বিতীয় কক্ষ হতে পারে, কিন্তু তাই বলে এই কক্ষ সেকেন্ডারি বা গৌন নয়।

প্রধানমন্ত্রীর মতে যখনই দেশের উন্নয়নের প্রশ্ন উঠেছে, এগিয়ে এসেছে রাজ্যসভা।   তিনি বলেন, অনেকেই বলেছিলেন তিন তালাক বিল কিংবা জিএসটি বিলের মতো বিলগুলি রাজ্যসভায় আটকে যাবে। কিন্তু রাজ্যসভার সাংসদদের জন্যই আজ এই বিলগুলি আইনে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৭০ ধারা ও ৩৫ক ধারা বাতিলেও রাজ্যসভা বড় ভূমিকা নিয়েছিল।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আরও এক বিশেষ কারণে রাজ্যসভার অন্যরকম গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচনী রাজনীতিতে জড়িত নন, এমন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিই রাজ্যসভার মারফত দেশের উন্নয়ন ও গঠনে অবদান রাখতে পারেন।

এরপরই নরেন্দ্র মোদীর মুখে শোনা যায় বিজেডি ও এনসিপি - এই দুই দলের প্রশংসা। প্রদানমন্ত্রী জানান, এই দুটি দলই সংসদীয় বিধিকে সবচেয়ে ভালোভাবে পালন করেছে। গত ২৫০টি অধিবেশনে এই দুই দলের কোনও সাংসদই কখনও ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ জানাননি। কোনও অসংসদী আচরণ করেননি। আর তা না করেও নিজেদের বক্তব্যকে মতামতকে সঠিকভাবে তুলে ধরেছেন। মোদী তাঁর নিজের দল বিজেপি ও ভারতের বাকি দলগুলিকে এই দুই দলের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। একেবারেই সংসদীয় কারণে প্রশংসা করা হলেও, মহারাষ্ট্রের গনগনে পরিস্থিতিতে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ করে এনসিপি-র খোলামেলা প্রশংসা করাটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।