করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নতুন  আশার আলো দেখতে পেল ভারত। কোভিড ১৯ রোগের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ সফল হল দিল্লিতে। সুস্থ হয়ে উঠলেন ভেন্টিলেশেন যাওয়া রোগীও। জানা যাচ্ছে দিল্লির সাকেতে ম্যাক্স হাসপাতালে ৪৯ বছর বয়সী এক করোনা রোগীকে দিন সাতেক আগে ভেন্টিলেশনে পাঠানো হয়েছিল। তার পরেও অবস্থার বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের অনুমতি নিয়েই করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা এক ব্যক্তির প্লাজমা তাঁর শরীরে পাঠিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চতুর্থ দিনের পর থেকেই সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন ওই রোগী। ইতিমধ্যে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের নির্দেশ মেনে আরও দু’সপ্তাহ গৃহবন্দি অবস্থায় থাকতে হবে ওই ব্যক্তিকে।

আক্রান্ত হয়েছেন মারণ ভাইরাসে, জানতে পেরেই আতঙ্কে আত্মঘাতী করোনা রোগী

যখন-তখন শীতের অনুভূতি থেকে মাথাব্যথা, জেনে নিন করোনা আক্রান্তের আরও নতুন কিছু উপসর্গ

করোনা নিয়ে আশার আলো দেখল দেশবাসী, ৩ সপ্তাহের মধ্যে ভারতে শুরু হচ্ছে ভ্যাকসিনের উৎপাদন

কেবল ওই ব্যক্তি নয় রাজধানীতে করোনা আক্রান্ত আরও তিন ব্যক্তিও প্লাজমা থেরাপির ফলে সুস্থ হওয়ার পথে। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা করোনা জয়ীদের দেহের প্লাজমা দিয়েই বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে আরোগ্যের পথে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন চিকিৎসকরা। অদূর ভবিষ্যতে এই ভাবেই প্রচুর সঙ্কটাপন্ন করোনা রোগীকে সুস্থ করে তোলা যাবে বলেই আশাবাদী চিকিৎসকরা। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু-মুসলিম সব সম্প্রদায়ের করোনা জয়ীদের প্লাজমা দানে এগিয়ে আসার আর্জি জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। তাঁর এই আবেদনের ইতিমধ্যে সুফল ফলতে শুরু করেছে। করোনাকে হারিয়ে সেরে ওঠা ৩০০ বেশি তবলিগি জামাত সদস্য, দিল্লি সরকারের কনসেন্ট সেন্টারে নিজেদের প্লাজমা দান করার জন্য আবেদন করেছেন। 

 

 

নরেলা সেন্টারের ১৯০ জন, সুলতানপুরি সেন্টারের ৫১ জন, মঙ্গলপুরি সেন্টারের ৪২ জন তবলিগি জামাত  সদস্য নিজেদের রক্তের প্লাজমা দান করতে চলেছেন। তবলিগি জামাতের মহম্মদ সাদও জামাত সদস্যদের প্লাজমা দান করার জন্য আবেদন করেছেন।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি শুরু করেছে আমেরিকাও । এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে করোনা আক্রান্ত রোগী সেরে ওঠার পর তাঁর রক্তের প্লাজমা অন্য আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রবেশ করিয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয়। তাতে করোনা দমন করা সম্ভব হয়। এমনই মনে করছেন চিকিৎসকরা। আমেরিকার চিকিৎসকরা ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছেন। ভারতও এবার সেই পথে এগোচ্ছে।