সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কড়া হাতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে প্রয়োগ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দিন দুই আগেই বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসায় জড়িতদের কাছ থেকে লোকসান আদায় করার নিদান দিয়েছিলেন যোগী। এরপরই সোমবার মুজফ্ফরনগরের অন্তত ৬৭ টি দোকানে তালা লাগিয়ে দিল উত্তরপ্রদেশের পুলিশ। বলা হয়েছে এই দোকানিরা হিংসাত্মক আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। তদন্তে তা প্রমাণিত হলে দোকানগুলি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এর আগে যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় আন্দোললনের নামে হিংসা চলেছে। সরকারী ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে। এর কড়া হাতে মোকাবিলা করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। আরও বলেছিলেন, জনগণের সম্পত্তির ক্ষতি করেছে যারা তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং নিলামে তা বিক্রি করে লোকসানের ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, বেশিরভাগ অপরাধীকেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও রেকর্ডিং দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মুজফ্ফরনগরের এই দোকান মালিকদের কোন উপায়ে অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। মুজফ্ফরনগর পুলিশের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অভিষেক যাদব বলেছেন, এই দোকানগুলির বাইরে জনতা সমবেত হয়েছিল। তারপরই হিংসা ছড়িয়েছিল। তাই দোকানদারদের সেখানে কি ভূমিকা ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গত শুক্রবার রাজ্যের অন্যান্য ১২টি জেলা-সহ মুজফ্ফরনগরেও হিংসাত্মক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১০টি মোটরবাইক এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। জনসাধারণের প্রচুর সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়। ১২ জন পুলিশকর্তা-সহ মোট ৩০ জন ঘটনায় আহত হন।

রাজ্যের বেশ কিছু অংশে এখনও ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবাও। এখন পর্যন্ত শুদু মুজফ্ফরনগরের ঘটনাতেই ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুটি পৃথক মামলায় মোট ২৬২ জনের নামে অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশে নাগরিক আইন বিরোধী আন্দোলনে মোট ১৩১টি মামলায় ৮৭৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মুজফ্ফরনগরের মতো লখনউ ও সম্ভল-এও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া সুরু করা হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একটি ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।