রবিবার সকালে ভারতে আরও পাঁচজনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির ইতিবাচক প্রমাণ পাওয়া গেল। ভারতে প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল কেরলে। সেই রাজ্যেই একই পরিবারের পাঁচ সদস্য এই মারণরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ভারতে করোনাভাইরাসের কবলে পড়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯।  

কেরল-এর স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি পরিবারের তিনজন সদস্য ইতালি-তে গিয়েছিলেন। যে ইতালি ইউরোপে করোনভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা বলেছেন, ওই পরিবার বিমানবন্দর দিয়ে ঢোকার সময় তাঁরা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন তা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেননি। তাই তাঁদের আলাদাও করা হয়নি। এমনকী প্রথমে তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হতেও অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য অনেক বলে কয়ে রাজি করানো হয়।

কে কে শৈলজা আরও জানিয়েছেন, ইতালি থেকে পরিবারের তিন সদস্য ফিরে এসে কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গেও দেখা করেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে দুইজনই প্রথম কোভিড-১৯'এর লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তাঁদেরকে প্রথম বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। পরে পরিবার যে তিন সদস্য ইতালি-তে গিয়েছিলেন তাঁদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। ওই পরিবার পথনমথিত্তা জেলার বাসিন্দা। আক্রান্ত পাঁচজনকেই পথনমথিত্তা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টা চাঁদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ভারতের করোনভাইরাস সংক্রমণের প্রথম তিনটি ঘটনাই ঘটেছিল কেরলে। তিনজন রোগীই চিনের উহান প্রদেশে ডাক্তারি পড়তেন। গত ডিসেম্বরে চিনের এই প্রদেশেই প্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। অবশ্য কেরলের ওই তিন রোগীই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন। উহানে ভাইরাসের যাত্রা শুরু হলেও ইতিমধ্যেই বিশ্বের ৯৫টি দেশে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ৩,৫০০ এরও বেশি লোক এই রোগে প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত। ইতালি-তে এই রোগের কবলে পড়েছেন প্রায় ৬০০০ মানুষ। ইতিমধ্যেই ২২৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুও হয়েছে।