ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পথ প্রসস্থ করায় ভারত ছাড় আন্দোলনে ভুমিকা ছিল অনবদ্য, আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন ১৯৪২ সালের ৯ই অগাস্টের স্মৃতি। ৯ই অগাস্টেই মহাত্মা গান্ধী প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছিলেন ব্রিটিশ শাসন এবার শেষের পথে, বোম্বে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি থেকে ডাক দেওয়া হয় ভারত ছাড় আন্দোলনের। এই আন্দোলনে পা মিলিয়েছিলেন শত সহস্র মানুষ, সেই তালিকায় উল্লেখ যোগ্য ভুমিকা পালন করেছিলেন মহিলারা। প্রথমসারিতে এসে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নিজেদের এগিয়ে দিয়েছিলেন। 

৯ই অগাস্ট, ভোর রাতেই গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস কার্যনির্বাহক কমিটির সকল সদস্যদের। মহিলাদের মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছিল কেবলমাত্র সরোজিনী নাইডুকে। মহিলাদের ভুমিকা নিয়ে ছিল না কোনও পূর্ব পরিকল্পনা, কিন্তু নিজ নিজ ভুমিকায় সকলেই এগিয়ে এসেছিলেন পরাধীনতার বেরি ভাঙতে। মহিলাদের এই পদক্ষেপ দেখে গান্ধীজী প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছিলেন-স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মহিলাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

একাধিক গুরুভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মহিলারা, জাতীয় কংগ্রেসের গোপনে বেতার সঞ্চালনার ভার গ্রহণ করেছিলেন উষা মেহতা, এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অগ্রণী ভুমিকা গ্রহণ করেছিলেন সুচেতা কৃপালনী, অরুনা আসফ, ১৪ বছরের কিশোরী কনকলতা বড়ুয়া। আঞ্চলিক স্তরে এই আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনেও ছিল মহিলাদের অনস্বীকার্য অবদান, মতঙ্গিনী হাজরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বহুবার। বীরভুম এলাকার শান্তিনিকেতনে আন্দোলনে জোয়ার এনেছিলেন এলা দত্ত, লাবণ্যপ্রভা দত্ত, সুনিতা সেন নন্দীতা কৃপালনী প্রমুখেরা। 

এই আন্দোলনের শুরু ঠিক ৭৭ বছর আগে, ৯ই অগাস্টের সকালে। প্রথম পর্যায় এই আন্দোলন কলকাতা, দিল্লি, নাগপুর, বরোদা-তে ছড়িয়ে পড়েছিল। অংশ গ্রহণ করেছিলেন ছাত্র থেকে যুবক, যুবতী, মধ্যবিত্ত, শ্রমিক শ্রেণি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষেরা। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তোলা এই আন্দোলনের ডাক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামাঞ্চলেও। নানা জায়গায় মধ্যবিত্তরা সরকারী চাকরি ছেড়ে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের রূপ দেখেই ইঙ্গিত মিলেছিল স্বাধীনতা আসন্ন। স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায় এসে যখন গোটা দেশ সরব হয়ে উঠেছিল, তখনই এই আন্দোলন সার্থকরূপ নিয়ে তৈরি করেছিল ইতিহাস।