উত্তরপ্রদেশে কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে ধরতে গিয়ে প্রাণ গেল ৮ পুলিশকর্মীর। যাদের মধ্যে রয়েছেন ডেপুটি পুলিশ সুপারও।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকাশ দুবে নামে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে কানপুরের চৌবেপুর থানা এলাকায় ডিক্রু গ্রামে পুলিশ ঢুকতেই তাঁদের লক্ষ্য করে শুরু হয় গুলির বর্ষণ। তাতেই মৃত্যু হয় ৮ জন পুলিশকর্মীর। আহত হন আরও ৬ জন পুলিশকর্মী। তাঁদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

 

ডেপুটি পুলিশ সুপার ও আইজির নেতৃত্বে এই এনকাউন্টারে নেমেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। কিন্তু  ডিক্রু গ্রামে ঢুকতেই  বাড়ির ছাদ থেকে শুরু হয় গুলি চালান। নিহতদের তালিকায় ডেপুটি পুলিশ সুপার দেবেন্দ্র মিশ্র ছাড়াও রয়েছেন একজন ডিএসপি, ৩ জন সাব-ইন্সপেক্টর ও ৪ জন কনস্টেবল পর্যায়ের পুলিশকর্মীও। প্রায় ১৫-১৬ জনের দল কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিকাশ দুবেকে ধরতে বৃহস্পতিবার  মধ্যরাতে এই অভিযানে নেমেছিল। বিকাশ দুবের বিরুদ্ধে ৬০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়া উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সন্তোষ শুক্লাকে ২০০১ সালে হত্যা করার অভিযোগও রয়েছে এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, বিকাশ দুবে নামের ওই  দুষ্কৃতী ও তার সঙ্গীরা পুলিশ টিমকে লক্ষ্য করে নিজের বাড়ির ছাদ থেকে গুলি ছুড়তে  শুরু করে ৷ উত্তরপ্রদেশে মন্ত্রীকে খুনের ঘটনায় তদন্ত করছে যে টিম তাদের উপরই এই হামলা চালান হয় ৷ এনকাউন্টারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ৷ 

পুলিশ সূত্রে খবর, সম্ভবত  অভিযানের খবর আগেই পেয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। তারা তৈরি হয়েই ছিল। পুলিশের গাড়ি আসতেই গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনার পরেই উত্তরপ্রদেশের সীমানা সিল করে দেওয়া হয়েছে।  অভিযুক্তদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।

এনকাউন্টারে পুলিশকর্মীরা শহিদ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে ৷ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার জন্য তল্লাশি অভিযান শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ ঘটনাস্থলে গিয়েছেন ডিজিপি  ও এডিজি (ল অ্যান্ড অর্ডার) প্রশান্ত কুমার ৷ তবে উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের আমলে সংঘর্ষে এতজন পুলিশকর্মীর একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।