গত দুইমাস ধরে ভারতে মৃদু থেকে মাঝারি আকারের ভূমিকম্প হয়েই চলেছেরাজধানী দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায় প্রায় ১১ টি ভূমিকম্প হয়েছেএতেই বিপদের সম্ভাবনা দেখছেন ভূ-বিজ্ঞানীরাতারা সতর্ক করছেন শিগগিরই আসতে চলেছে বড় মাপের ভূমিকম্প 

গত দুইমাস ধরে ভারতে মৃদু থেকে মাঝারি আকারের ভূমিকম্প হয়েই চলেছে। শুক্রবারই ৪.৭ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। তার আগে মণিপুরও কেঁপে উঠেছিল জোড়া ভূমিকম্পে। ভূমিকম্প হয়েছে হরিয়ানাতেও। তবে সবচেয়ে বেশিবার কেঁপে উঠেছে রাজধানী দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকা। গত ৩ জুনের মধ্যে গত দু'মাসে দিল্লিতে প্রায় ১১ টি মাঝারি ও মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। আর এতেই বিপদ দেখছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত ভারতের রাজধানীতে শিগগিরই একটি বড় মাপের ভূমিকম্প হতে পারে বলে সতর্ক করছেন তাঁরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কোভিড মহামারি, জোড়া সাইক্লোন, পঙ্গপালের হানা, তাপপ্রবাহ, গ্রহাণুর চুটে আসার সঙ্গে দিল্লির মতো ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় জোরালো ভূমিকম্প হলে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই অঞ্চলে প্রায় ৬০০-৭০০ বছর ধরে কোনও বড় ভূমিকম্প হয়নি। তাতেই ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে যে কোনও সময়েই রিখটার স্কেলে ৮.৫ বা তারও বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে।

বেঙ্গালুরুর জওহরলাল নেহেরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চের জিওডায়েনামিক ইউনিটের অধ্যাপক সি.পি. রাজেন্দ্রন জানিয়েছেন হিমালয়ের অন্যান্য অংশের যেভাবে মাঝেমাঝেই ভূমিকম্প হয়েছে, তেমনটা মধ্য হিমালয়ের এই পাদদেশ এলাকায় দেখা যায়নি। অথচ ভারতীয় যে টেকটনিক প্লেট রয়েছে, তার উত্তরমুখী চলাচলের কারণে এই অঞ্চলে ক্রমেই চাপ বাড়ছে। এই চাপ নির্গত হবে বড় আকারের ভূমিকম্প বা ধারাবাহিক ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে। এটা যে কোনওদিন হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা শুধু সতর্কই করতে পারেন, তবে ঠিক কখন হবে তা এখনও বলার মতো ক্ষমতা তৈরি হয়নি বিজ্ঞানের। তবে এতে করে দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

আইআইটি ধানবাদের জিওফিজিক্স বা ভূ-পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পি.কে. খান জানিয়েছেন, এখন যে ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন দেখা যাচ্ছে তা বড় মাপের ভূমিকম্পেরই ইঙ্গিত। তিনি জানিয়েছেন এই পুরো অঞ্চলে গত দুই বছরে রিখটার স্কেলে ৫.০ বা তার আশপাশের মাত্রার অন্তত ৬৪ টি কম্পন অনুভূত হয়েছে। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে দিল্লি ও কাংগ্রার অঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এমনিতেই দিল্লি 'চতুর্থ শ্রেনির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল', অর্থাৎ ভূমিকম্পের ফলে উচ্চ ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। তার উপর দিল্লির ৯৫ শতাংশ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সুরক্ষা বিধি মানেন না স্থপতিরা। গত ৭০ বছরে দিল্লির জনসংখ্যাও বহুগুণে বেড়েছে। শেষবার দিল্লিতে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ॥৭২০ সালে। সেই রকম ভূমিকম্প যদি ফের হয়, তাহলে বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে যমুনা নদীর আশেপাশের অঞ্চলগুলিতে সসবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারকে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতা তৈরির জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের কথা রাজনীতির কারবারিরা কানে তোলেন কিনা এখন সেটাই দেখার।