নিজের নাম অক্ষয় করে রাখতে চান প্রায় সকলেই। কিন্তু, কাগজ কুড়ানোর মতো সামান্য কাজ করেও যে তা করা যায়, তা দেখিয়ে দিলেন তামিলনাড়ুর সালেম জেলার এক ব্যক্তি। সম্প্রতি নিজের জীবনের সব সঞ্চয় খরচ করে জমি কিনে, তিনি সেই জমিতে নিজের একটি মূর্তি স্থাপন করেছেন।

রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল ও আরও অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন অ্যাথানুরপট্টি গ্রামের বাসিন্দা এ নল্লাতাম্বি। এভাবে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মতো আয় হয় তাঁর। আগে অবশ্য রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। কিন্তু, সেই কাজে চাপ বেড়ে যাওয়ায় বছর কুড়ি আগে রাজমিস্ত্রির কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন নল্লাতম্বি। সেই থেকে পরিবারের সঙ্গেও বিচ্ছেদ ঘটেছিল তাঁর। বাপ-ঠাকুর্দার অনায়িমদু গ্রাম ছেড়ে বেড়িয়ে পড়েছিলেন নিজের হাতে নিজের ভাগ্য গড়ার ইচ্ছেয়।

সেই রাজমিস্ত্রি হিসাবে কাজ করার দিন থেকে শুরু করে এতদিন পর্যন্ত তাঁর ১১ লক্ষ টাকারও বেশি সঞ্চয় হয়েছিল। তারম্যে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে নল্লাতম্বি ওয়াজপড়ি-বেলুড় গ্রামে দুটি ১২০০ বর্গমিটার মাপের জমি কিনেছেন। তারপর স্থানীয় এক ভাস্করকে আরও এক লক্ষ টাকা দিয়ে সেই জমিতে নিজের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি তৈরি করিয়েছেন। একটি বেদির উপর তৈরি সেই মূর্তির উপর একটি ছাদও নির্মাণ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন মূর্তিটি অনেকটাই মধ্যযুগীয় তামিল রাজপরিবারের মূর্তিগুলির মতো দেখতে।

কিন্তু, কেন হঠাৎ এক খরচ করে নিজের মূর্তি স্থাপন করলেন সামান্য কাগজ কুড়ানোর কাজ করা এই ব্যক্তি?নল্লাতম্বি জানিয়েছেন, একেবারে ছোটবেলা থেকেই তাঁর শখ ছিল, বড় হয়ে তাঁর প্রচুর নাম-ডাক হবে। তাঁর মূর্ত স্থাপন করা হবে। কিন্তু, সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর তিনি তাঁর সঞ্চিত সম্পদ-ও আর কাউকে দিতে চান না। তাই আজীবনের স্বপ্নপূরণের জন্যই তিনি সেই সম্পদ ব্যয় করেছেন।

ইতিমধ্যেই ভাস্কর্যটি ঘিরে কৌতূহলী দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। মূর্তিটি কার এবং কেন তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, তা সকলেই জানতে চান। নল্লাতম্বির কাহিনি সোনার পর তাঁদের বিস্ময় আরও বাড়ছে। দাবানলের মতো এই মূর্তির কাহিনি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় নল্লাতম্বির ইচ্ছে বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মূর্তিটি উন্মোচন করবেন।