শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ জঙ্গিহানায় ত্রস্ত সারা বিশ্ব। ইস্টার রবিবারের সেই হামলা কেড়ে নিয়েছে প্রায় 300 মানুষের প্রাণ। এখনও বিভীষিকায় দিন কাটাচ্ছে মানুষ। সেই একই ধাঁচে কেরলে নাশকতার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। 

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্য়মের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। সেই  সন্দেহভাজনের নাম রিয়াস এ ওরফে রিয়াস আবুবকার ওরফে আবু দুজানা। জানা গিয়েছে, কেরলের পালাক্কাড়ের এই বাসিন্দা শ্রীলঙ্কা হামলা দেখে রীতিমতো অনুপ্রাণিত হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল।  

জাতীয় তদন্ত সংস্থা জেরা করলে, 29 বছরের ধৃত এই জঙ্গি জানায়, শ্রীলঙ্কা হামলার মূল চক্রী হাশিম মহম্মদ জাহরানের একাধিক ভিডিও দেখত সে। সেই সব বার্তা শুনেই কেরলে মৃত্য়ু মিছিলের ছক কষেছিল রিয়াস এ। এমনকী তার সঙ্গে যে আইএস-এরও যোগ ছিল, সে কথাও স্বীকার করেছে সে। 

রবিবার কেরলে তিন জন সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাসি চালায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা। শ্রীলঙ্কা হামলার এক সপ্তাহের মধ্য়েই তাদের কাছে খবর ছিল 15 দন ভারত ছেড়েছে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে। মূলত আইএস-এই এই 15 জন যোগ দিয়েছে। ধৃত এ রিয়াসের সঙ্গে এই ঘটনারও যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে এনআইএ।

গোয়েন্দাদের কাথে খবর ছিল, কেরলের পালাক্কাড় ও কাসারাগড় এলাকায় জঙ্গিকা ঘাঁটি বেঁধেছ রয়েছে। সেই এলাকায় তল্লাসি চালাতে গিয়েই এনআইএ পাকড়াও করে রিয়াস এ-কে।  ধৃত যুবকের সঙ্গে লস্কর প্রধান আবু ডুজানারও যোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সে হাশিন জাহরানের কট্টর অনুগামী বলে জানিয়েছে।  এই হাশিম অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও দিয়ে মগজ ধোলাই করত। রিয়াসও প্রত্য়েকদিন এই ভিডিও শুনত। একটি ভিডিওয় সে বলেছে, ‘‘এমন ভাবে হামলার ছক কষব, দেহের কোনও টুকরো খোঁজারও সময় পাওয়া যাবে না। আল্লাকে যারা অপমান করেছে, তাদের নরকে পাঠাবো।’’ 

প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় ভয়াবগ হামলার পরে ভারতেও নিরাপত্তা কড়া করার কথা জানায় এনআইএ। যেহেতু ভারতে বেশ কয়েকচি মেট্রোসিটি রয়েছে, তাই সেইগুলিকে জঙ্গিরা নিশানা করতে পারে বলেও সাবধান করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা। তবে শুধু মেট্রো সিটি নয়, সারা দেশ জুড়েই শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাসি।