আন্দামানে অবস্থিত ব্যারেন আইল্যান্ড ভারতের একমাত্র জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। সমুদ্রের মাঝে থাকা এই অদ্ভুত ন্যাশনাল পার্কে লাভা জমে তৈরি হওয়া পাথর, বিরল সামুদ্রিক প্রাণী আর রোমাঞ্চকর দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। জানুন কীভাবে এখানে পৌঁছবেন এবং ভ্রমণের জন্য জরুরি কিছু টিপস।

ভারতে অনেক ন্যাশনাল পার্ক আর প্রাকৃতিক বিস্ময় থাকলেও, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ব্যারেন আইল্যান্ডকে (Barren Island) ভারতের সবচেয়ে অদ্ভুত পার্ক বলা যেতে পারে। এখানকার আগ্নেয়গিরিটাই ভারতের একমাত্র জীবন্ত বা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যা সমুদ্রের মাঝে এক নির্জন দ্বীপে রয়েছে। চারদিকে ঘন জঙ্গল, কালো লাভার পাহাড় আর নীল জলরাশি—এই জায়গাটা প্রকৃতির এক বিরল সৃষ্টি, যা ভারতেই আছে। অ্যাডভেঞ্চার আর প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই জায়গাটা কোনও রহস্যময় জগতের থেকে কম নয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ব্যারেন আইল্যান্ড: ভারতের একমাত্র জীবন্ত আগ্নেয়গিরি

ব্যারেন আইল্যান্ড আন্দামান সাগরের বুকে থাকা একটি ছোট্ট নির্জন দ্বীপ। এটিকেই ভারতের একমাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে ধরা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এখানে একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাতের প্রমাণ মিলেছে এবং সময় সময় লাভা ও ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। এই কারণেই সাধারণ মানুষের জন্য এই দ্বীপটি খোলা নয়। তবে পর্যটকদের জন্য ক্রুজ বা বোটে করে দূর থেকে এটি দেখার অনুমতি দেওয়া হয়।

কেন এই ন্যাশনাল পার্ক এত স্পেশাল?

ব্যারেন আইল্যান্ড শুধু আগ্নেয়গিরির জন্যই নয়, তার অদ্ভুত ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের জন্যও পরিচিত। এখানে আগ্নেয়গিরির মাটি, লাভা জমে তৈরি হওয়া পাথর এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়। এর চারপাশের সমুদ্র স্কুবা ডাইভিং এবং স্নরকেলিং-এর জন্য বেশ জনপ্রিয়। এখানে রঙিন মাছ আর কোরাল রিফও দেখা যায়। প্রকৃতিপ্রেমী এবং বিজ্ঞানীদের কাছে এই জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে পৌঁছবেন এখানে?

ব্যারেন আইল্যান্ডে পর্যটকরা সরাসরি যেতে পারেন না, তাই এখানে যাওয়ার জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। সাধারণত, পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ক্রুজ বা চার্টার্ড বোটে করে পর্যটকরা দূর থেকে এই দ্বীপটি দেখেন। পোর্ট ব্লেয়ারে পৌঁছনোর জন্য দিল্লি, কলকাতা এবং চেন্নাই থেকে রোজ ফ্লাইট পাওয়া যায়।

ভ্রমণের সময় এই বিষয়গুলি মাথায় রাখুন

ব্যারেন আইল্যান্ডের কাছাকাছি ঘোরার সময় সুরক্ষার নিয়মকানুন মেনে চলা খুব জরুরি। এটি একটি আগ্নেয়গিরি অঞ্চল হওয়ায় দ্বীপে নামার অনুমতি নেই। তাই সবসময় রেজিস্টার্ড ট্যুর অপারেটরের সঙ্গেই ভ্রমণ করুন। সঙ্গে অবশ্যই ক্যামেরা, দূরবীন আর সানস্ক্রিন রাখুন, যাতে এই অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন।