কতই বা বয়স হবে তার। বড়জোর বছরতিনেক। স্কুলে রান্না হচ্ছিল মিড-ডে মিল। ওই টলোটলো পায়ে সে কোন ফাকে এগিয়ে এসেছিল গরম কড়াই-ডেচকির সামনে তা টের পায়নি কেউ। তারপর এক সময়ে টাল সামলাতে না-পেরে, ইয়াব্বড়া সব হাঁড়িকুড়ির ভেতর পড়ে গেল সে। কানে ইয়ারফোন গুঁজে থাকা রান্নার দিদিমণিরা তা টেরই পেলেন না। যদিও খানিক পর যখন বাচ্চাটিকে উদ্ধার করা হল, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আর তাকে বাঁচানো গেল না।

উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর শহর থেকে  কিছু দূরে রামপুর আতারি প্রাথমিক স্কুলের  এই ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয়রা। তাঁদের একটাই প্রশ্ন,  যে স্কুলে এতজন বাচ্চা ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেখানকার কর্মীরা এত অসাবধানী হন কীভাবে। তিনবছরের ওই মেয়েটির নাম জানা গিয়েছে, আঁচল। আঁচলের বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ে যখন টাল সামলাতে না-পেরে গরম পাত্রের ওপর যখন পড়ে যায়, তখনই রান্নার লোকেরা যদি তা লক্ষ করতেন,  তাহলে আর এতবড় সর্বনাশ হত না তাঁর। কিন্তু ওই সময়ে সবাই কানে ইয়ারফোন গুঁজে বসেছিলেন। যখন তাঁরা বুঝতে পারলেন, তখন  তাকে হাসপাতালে না-গিয়ে,  এলাকা থেকে পালালেন!

এদিকে এই ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয়েছে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে। মির্জাপুরের জেলা শাসক সুশীল কুমার প্যাটেল সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, "স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সাসপেন্ড করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেসিক এডুকেশন অফিসারকে একটি এফআইআর দায়ের করতে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কিছুদিন আগে অন্ধপ্রদেশেও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে মিড-ডে মিলের রান্নার সময়ে, গরম সাম্বারের কড়াইতে পড়ে মারা গিয়েছিল এক শিশু। সেখানেও সেই একই প্রশ্ন উঠেছিল, কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে পরে ছোটদের স্কুলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে!