পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে চিনকে পাল্টা জবাব দিক ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে থাকবে কংগ্রেসে। বুধবার বহরমপুরের জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে বসে কংগ্রেসের লোকসভার পরিষদীয় দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী এমনটাই জানালেন। অধীর বলেন,'চিনের প্রত্যেকটা আক্রমণের পাল্টা জবাব দিন প্রধানমন্ত্রী। এই বিষয়ে জাতীয় কংগ্রেস সর্বোতভাবে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকবে'। প্রসঙ্গত এদিন একই বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও।

চিনকে উত্তর দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার বার্তা দিলেও এদিন অধীররঞ্জন চৌধুরী মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের বিদেশ নীতির সমালোচনা করেন। তিনি জানান, পাকিস্তান বরাবরই ভারতের শত্রুদেশ ছিল। কিন্তু, বর্তমানে চিন, নেপালও ভারতের বিরোধিতা করছে। নেপাল ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু। সেই সম্পর্ক সম্প্রতি নষ্ট হয়েছে। এই নতুন শত্রু তৈরি হওয়ার জন্য বিজেপি সরকারের বিদেশ নীতিই দায়ী বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, চিন চাইছে নেপাল পাকিস্তান-এর মতো এক এক করে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিকে নিজেদের দিকে টেনে ভারতকে ঘিরে ফেলতে। আর মোদী সরকারের ব্যর্থ বিদেশ নীতি তাদের সুবিধা করে দিচ্ছে।  বিজেপি-কে কটাক্ষ করে বলেন, 'বিশ্বে একটাই হিন্দু রাষ্ট্র আছে বলে জানতাম, তারা কেন মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে'।

তবে বর্তমান পরিস্থতিতে দেশের মান-মর্যাদা রক্ষা করা যেমন দরকারি, তেমনই দেশের অভ্যন্তরে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখাও জরুরি বলেন অধীর। দেশের ভিতরে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য নষ্ট না হয়, সেই দিকে সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান তিনি।

সেইসঙ্গে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সুরেই অধীর বলেন, 'কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকবে। কিন্তু, দেশের এই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উচিত হাত গুটিয়ে বসে না থেকে উপযুক্ত বিদেশ নীতি গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়া। দেশে ১৩০ কোটি মানুষ তাঁর দিকে চেয়ে আছেন, ৫৬ ইঞ্চি ছাতি এখন কেন চুপ করে আছেন'।

তবে বুধবার দুপুরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চিনের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন। ইঙ্গিত দিয়েছেন সামরিক পথেই চিনকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আগামী ১৯ জুন তারিখে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে আলোচনার জন্য সর্বদল বৈঠকও ডেকেছেন।