প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় কৃষি আইন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করছিলেন লোকসভায়। সেই সময়ই তাঁকে বারবার বাধা দিতে থাকেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। যা নিয়ে রীতিমত অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ভাষণের সময়ই  কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিয়ে ওয়াকআউট করে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বেই কংগ্রেস সাংসদরা ওয়াকআউট করে। 

'ভগবানের অবতার করোনা যোদ্ধারা', লোকসভায় কংগ্রেস নেতাকে নিশানা করে বললেন প্রধানমন্ত্রী ...

প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারী আর আন্দোলনজীবির ফারাক স্পষ্ট করলেন, কৃষি আইন নিয়ে বার্তা লোকসভায় ...

লোকসভার বাইরে বেরিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী  কংগ্রেস সাংসদদের ওয়াক আউটের কারণ ব্যখ্যা করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের ওয়াকআউটের কারণ হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেননি। তবে তিনি একমত হয়েছেন যে কৃষি আইনে সংশোধনী প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী এদিন সংসদে জানিয়েছেন কিছু মানুষ উপকৃত হবে কিছু মানুষ উপকৃত হবেন না। অধীর চৌধুরীর প্রশ্ন এমন আইন আনার কী প্রয়োজন যেখানে সকল কৃষক উপকৃত হবে না। অধীর চৌধুরী এদিন বলেন যে দিল্লির উপকণ্ঠে আন্দোলন চলাকালীন এখনও পর্যন্ত ২০৬ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।  কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

এদিন সংসদে কৃষি আইন নিয়ে আলোচনার সময়ই প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় ছিল বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলি। তিনি মূলত আক্রমণ করেন কংগ্রেসকে। তিনি বলেছিলেন বিরোধীরা কৃষি আইন নিয়ে বিভ্রান্ত করছে কৃষকদের। কৃষি আইনের রং নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এই আইনের উদ্দেশ্য ও পরিধি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। এদিন আলোচনার সময় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী একাধিকবার বাধা দেন প্রধানমন্ত্রীকে। অবশেষে কংগ্রেসের অন্যান্য সাংসদদের সঙ্গে তিনিও সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। কিন্তু সেই সময়ও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, তিনি অধীর চৌধুরীকে সম্মান করেন। আপনি বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে বেশি জনপ্রিয়তা পাবেন-তাই এই বিষয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। কিন্তু আপনি যেভাবে কক্ষ ত্যাগ করছেন তা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 


কংগ্রেস সাংসদরা ওয়াকআউট করার পরেই প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার নিশানা করেছিলেন কংগ্রেসকে। তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেস দলটি বর্তমানে এতটাই বিভক্ত হয়ে গেছে যে একই ইস্যুতে লোকসভা আর রাজ্যসভায় তারা আলাদা আলাদা নীতি গ্রহণ করে। অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী কৃষক আন্দোলন নিয়ে অর্থবহ কিছু বলতে নারাজ ছিলেন।  আর সকল কৃষকের সুবিধের জন্য সরকারের উচিৎ এখনই কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া।