মহামারিকালে প্রশাসনের উদ্বেহ বাড়াচ্ছে বার্ড ফ্লু। মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতেও বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার। এপর্যন্ত দেশের মোট ৯টি রাজ্য পড়েছে বার্ড ফ্লুর কবলে। অন্যদিকে ছত্তিশগড়ের আকাশে ঘণীভূত হচ্ছে সংক্রমণের মেধ। কারণ গত দুদিনে এই রাজ্যে ৪০০টিরও বেশি পাখির মৃত্যু হয়েছে। বার্ড ফ্লুর কবলে পড়ে একদিনে দেশে প্রায় ১২শ পাখির মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে অ্যাভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জাকেই দায়ি করা হয়েছে। গতকালই কেন্দ্রীয় সরকার মধ্যপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, গুজরাত, উত্তর প্রদেশ কেরল ও রাজস্থানে বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পশু পালন মন্ত্রও ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সচেতন থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


সংক্রমণ রুখতে দিল্লিসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যেই ইতিমধ্যেই পাখি ও প্রাণি আমদানীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সোমবার বার্ড ফ্লু নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পশুপালন মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের তলব করেছে। এদিন বেলা ৩টে নাগাদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান হয়েছে। অন্যদিকে  তৈরি করা হয়েছে বিশেষজ্ঞদল। পোলট্রি বাজার ও বেশ কয়েকটি হ্রদের ওপর নজরদারী চালাচ্ছে সেই দল। 

কেন্দ্রীয় সরকারের হিসেব অনুযায়ী গত দুই থেকে তিন সপ্তাহেপর মধ্যে তিন  থেকে চার লক্ষ পাখির মৃত্যু হয়েছে। অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এইচ৫এন১ ভাইরাসের ৪টি স্ট্রেইনের সন্ধান পাওয়া গেছে। মানুষের মধ্যে যাতে এজাতীয় রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আর সেই কারণেই দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের স্বাস্থ্য সচিবদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা জারি করা কথাও বলা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে পিপিই কিট দেওয়া হয়েছে। মৃত পাখি বা পশুর দেহ ও বর্জ্য প্রোটোকল মেনেই নষ্ট করার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বার্ড ফ্লু নিয়ে সতর্কতা জারি করার কথা বলা হয়েছে। আর হাঁস, মুরগিসহ যে কোনও পাখির মাংস খাওয়ার জন্য তা ভালো করে সেদ্ধ বা রান্না করে খাওর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।