মঙ্গলবার কর্নাটক বিধানসৌধে আস্থাভোটে অনুপস্থিত থাকলেন, সেই রাজ্যে বহুজন সমাজবাদি পার্টির একমাত্র বিধায়ক এন মহেশ। আর সেই কারণে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন মায়াবতী। ফলে আপাতত কর্নাটক বিধানসৌধ থেকে মুছে গেল বিএসপি-র নাম।

মঙ্গলবারই আস্থাবোটে পরাজিত হয়ে কর্নাটকে পতন ঘটেছে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারের। বিজেপির বিরুদ্ধে গোড়া কেনা বেচার জোরালো অভিযোগ উঠছে। তা যেভাবেই হোক, একের পর এক রাজ্যে গেরুয়া পার্টির সরকার উল্টে দেওয়া দেখে মনে হচ্ছে আধুনিক যুগে যেন অশ্বমেধ যজ্ঞে নেমেছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা।

২০১৪ সালে প্রথমম মোদী সরকারের সময়ই সেই যজ্ঞের সূচনা হয়েছিল। বিজেপি নেতারা খোলাখুলি বলেন, কংগ্রেসকে ভারতের বুক থেকে মুছে দেওয়ার কথা। সেই অশ্বমেদের ঘোড়া অবশ্য কিছুটা হলেও থমকেছিল ২০১৮ সালে। গুজরাত বিধানসভায় কান ঘেসে রক্ষা পেয়েছিল সাম্রাজ্য। কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট গড়ে আটকেছিল। তারপর রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে পতন ঘটেছিল বিজেপি সরকারের।

২০১৯-এ নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রের ক্ষমতায় ফেরার পর এবার সেই হৃত রাজ্যগুলি ফিরিয়ে নেওয়ার পালা। যার শুরুটা হল মঙ্গলবার কর্নাটকে। কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারে থাকা ২০ জন বিধায়ক আস্থা ভোটে ভোট না দিয়ে কুমারস্বামী সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রদর্শন করলেন। এবার পালা মধ্য়প্রদেশের, কমলনাথের?

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কর্নাটকের পালা বদলের পর মধ্যপ্রদেশের বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহান কিন্তু সেইরকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি সেই রাজ্যের সপা-বসপার সমর্থনপ্রাপ্ত কংগ্রেস সরকারের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। কমলনাথ সরকারে অবস্থাও কুমারস্বামী সরকারের মতো হতে পারে।

তবে তাঁরা মধ্যপ্রদেশে সরকার ফেলে দেওয়ার কোনও চেষ্টা করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাই তাঁর অনুরোধ সরকার পড়ে গেলে বিজেপিকে যেন দায়ী না করা হয়। এই কথায় বকলমে কর্নাটকে বিজেপি সরকার ফেলে দেওয়ার জন্য অসত উপায় নিয়েছিল, তা কার্যত এই প্রবীন বিজেপি নেতা মেনে নিলেন কিনা তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। কিন্তু যেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট, চেষ্টা করব না বলে চেষ্টা যে করা হবে তারই ইঙ্গিত দিলেন শিবরাজ চৌহান। নাহলে আগাম সাফাই দেওয়ার দরকার পড়ত না।

মধ্যপ্রদেশের ২৩১টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের হাতে আছে ১১৪টি আসন। আর বিজেপির রয়েছে ১০৮টি। এছাড়া বসপা-র ২জন, সপা-র ১জন ও চারজন নির্দল প্রার্থী আছেন, যারা কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন করে। একক সংখ্যা গরীষ্ঠতা পাওয়ার জন্য মোট ১১৬টি আসন দরকার, যা কংগ্রেসের হাতে নেই। অর্থাৎ কমলনাথ সরকার নিরাপদ তা বলা যাবে না।

কর্নাটকের মতো যদি জোট সরকারে ভাঙন ধরে, যেরকমটা শিবরাজ চৌহান বলেছেন, যদি ২০ জন বিধায়ক পাল্টি খান, সেই ক্ষেত্রে কিন্তু মধ্যপ্রদেশেও সরকার উল্টে যাবে। যদিও সেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও ক্রীড়ামন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা জিতু পাটওয়ারি বলেছেন, এটা কুমারস্বামী সরকার নয়, কমলনাথ সরকার, কেউ ছুঁতে পারবে না। তবে এই বক্তব্যে খুব একটা আত্মবিশ্বাসের ছাপ পাওয়া যাচ্ছে না।

লোকসভা নির্বাচন ২০১৯-এর একবছর আগে কর্নাটকে মুখ্য়মন্ত্রীত্বের দাবি ছেড়েও জেডিএস-এর সঙ্গে জোট করেছিল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী বলেছিলেন বিজেপি-কে আটকাতে সবরকম স্বার্থত্যাগে রাজি কংগ্রেস। কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণে বিভিন্ন বিজেপি বিরোধী জাতীয় ও প্রাদেশিক দলের নেতা-নেত্রীরা এসেছিলেন। তাতে রাজনৈতিক মহল মনে করেছিল বিজেপিকে আটকানোর পথ দেখালো কর্নাটক। মঙ্গলবারের পর মনে করা হচ্ছে অশ্বমেধের ঘোড়ার দুর্দম দৌড়ের পথ দেখাল দাক্ষিণাত্বের এই রাজ্যই।