মাঘ মাসের বেশ কিছুটা পার করে গেছে। তবু এই বিখ্যাত শৈলশহরে তুষারপাত হয়নি। অবশেষে বসন্তপঞ্চমীতে পৌঁছে এই মরসুমের প্রথম তুষারপাতে মাতোয়ারা শহরের বাসিন্দা থেকে পর্যটকেরা।
প্রায় তিন মাসের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে তুষারপাতের সাক্ষী হলো হিমাচল প্রদেশের শৈলশহর সিমলা। জানুয়ারির শেষে (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) মরসুমের প্রথম এই তুষারপাতে শহরটি সাদা চাদরে ঢেকে গেছে, যা পর্যটকদের মধ্যে চরম উন্মাদনা তৈরি করেছে। কুফরি, নারকান্ডা, মানালি সহ উঁচু এলাকা গুলোতেও ভারী তুষারপাত শুরু হয়েছে, যা খরা পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি এনেছে, তবে জনজীবন কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে।
সিমলার প্রথম তুষারপাতের বিস্তারিত বিবরণ:
* দীর্ঘ খরা ও স্বস্তি: সাধারণত ডিসেম্বর থেকেই সিমলাতে তুষারপাত শুরু হয়, কিন্তু এই বছর দীর্ঘ ৩ মাস ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছিল। ২৩ জানুয়ারী, শুক্রবারের এই বৃষ্টি ও তুষারপাত স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
* পর্যটকদের ভিড়: তুষারপাতের খবরে সিমলা এবং তার আশে পাশে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় শুরু হয়েছে। অনেকেই দিনের পর দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস ট্র্যাক করে এই সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন ।
* ভারী তুষারপাতের রেকর্ড: কুফরি এবং মানালিতে ভারী তুষারপাত হয়েছে।কিন্নৌর জেলার কোঠিতে সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত বরফ জমেছে । সিমলায় ২৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে ।
* জনজীবন ও সতর্কতা: তুষারপাতের ফলে রাস্তাঘাট পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে এবং অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে । প্রশাসন পর্যটকদের সতর্ক করেছে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি না চালানোর পরামর্শ দিয়েছে।
* আগামী পূর্বাভাস: আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, এই তুষারপাত ও বৃষ্টির ধারা আগামী ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এই প্রথম তুষারপাত সিমলার পর্যটন শিল্পে চাঙ্গা ভাব ফিরিয়ে এনেছে এবং হিমাচলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নতুন রূপ দিয়েছে।
