সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুত্ব করেছিল সে। বয়স তার ২০-র ঘরে। তার নাম না জানলেও তার সঙ্গে আবেগের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের উজ্জইনের বাসিন্দা এক ২২ বছরের যুবতী। আর সেই সুযোগেই তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করে হাওয়া হয়ে গিয়েছে সেই যুবক, বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা।

শুক্রবার উজ্জইন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই যুবতী। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯ সাল থেকে তাকে চিনলেও  অভিযুক্তের আসল নাম তিনি জানেনই না। ইনস্টাগ্রামের তার ইউজার নেম ছিল 'জিদ্দি লড়কা'। ২০১৯-এর জুনে সে ইনস্টাগ্রামে তাকে ফলো করার অনুরোধ পাঠিয়েছিল। সেই থেকে তাদের বন্ধুত্ব হয়, শুরু হয় নিয়মিত চ্যাট করা। এরপর এক সময় দেখা করার জন্য জেদাজেদি শুরু করেছিল 'জিদ্দি লড়কা'। মহিলা রাজি না হওয়ায় শুরু হয়েছিল তার আবেগকে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল করা।

নির্যাতিতা জানিয়েছেন, গত আগস্ট মাসে, সে দাবি করেছিল, তার সঙ্গে দেখা করতে আহমেদাবাদে আসতে হবে মহিলাকে। সেই অনুরোধ না মানলে আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়েছিল। মহিলা রাজি না হওয়ায় একের পর এক নিজের হাত কাটার ছবি পাঠিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া মারফত। এই ভাবে উজ্জইনের মহিলার উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল সে। ছেলেটি আত্মহত্যা করবে এই ভয়ে, শেষ পর্যন্ত আহমেদাবাদের খাদিয়ায় এসেছিলেন ওই মহিলা।

সেখানে ছেলেটির সঙ্গে দেখাও হয়েছিল তাঁর। সে তাঁকে রায়পুরের এক হোটেলে নিয়ে গিয়ে এবং দু'দিন ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা দুজনে বিয়ে করবে। সেই প্রতিশ্রুতির টানেই গত অক্টোবর মাসে ওই মহিলা ফের আহমেদাবাদে এসেছিলেন। এবারও তাঁকে এক গেস্টহাউসে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ওই যুবক। তখনও বিয়ের প্রতিশ্রুতির জেরে কিছু বলেননি ওই মহিলা।

কিন্তু, অক্টোবর মাসে তিনি বাড়ি ফিরে আসার পর থেকেই একেবাকরে কর্পুরের মতো উবে গিয়েছে 'জিদ্দি লড়কা'। তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সে একেবারে অদৃশ্য। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে তাও আশা করে বসেছিলেন ওই যুবতী। কিন্তু 'জিদ্দি লড়কা'র থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে অবশেষে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরে উজ্জইন পুলিশ মামলাটি আহমেদাবাদের খাদিয়া পুলিশ-এর হাতে তুলে দিয়েছে। কারণ অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তাদেরই এক্তিয়ারভুক্ত অঞ্চলে। তবে এই মামলায় পুলিশকে সবচেয়ে অবাক করে দিয়েছে ওই যুবতীর আচরণ। দেড় বছরের উপর চেনা এক ব্যক্তি, যাঁর সঙ্গে বিয়ে করবেন বলে ভাবছেন, তাঁর নামটা কেন তিনি জেনে নেননি, তা তারা বুঝে পাচ্ছে না।