দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল লস্কর-ই-তইবার জঙ্গি মডিউলের ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। কলকাতা এবং তামিলনাড়ু থেকে আটজন সন্দেহভাজনকে ধরা হয়।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল লস্কর-ই-তইবার জঙ্গি মডিউলের ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। কলকাতা এবং তামিলনাড়ু থেকে আটজন সন্দেহভাজনকে ধরা হয়। স্পেশাল সেলের কর্তারা জানিয়েছেন, এই মডিউলটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বাংলাদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নির্দেশে ভারতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছিল। অভিযানের সময় পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ১২টিরও বেশি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে।

কলকাতায় পোস্টার

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে যে এই অভিযুক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে সমর্থন করে এমন বিষয়বস্তু পোস্ট করেছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অতিরিক্ত সিপি প্রমোদ কুশওয়াহা জানিয়েছেন যে ৭ এবং ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি এবং কলকাতার মেট্রো স্টেশনগুলিতে বুরহান ওয়ানি এবং পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির কার্যকলাপকে মহিমান্বিত করে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে যে পোস্টারগুলি কলকাতা থেকে দিল্লিতে এসেছিল। ৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় পোস্টারগুলি লাগানো হয়েছিল। কলকাতার বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন এবং অন্যান্য স্থানে ভারতবিরোধী পোস্টার লাগিয়েছিল।

এই মামলায় কলকাতা থেকে দু'জন এবং তামিলনাড়ু থেকে ছ'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর তিরুপুর থেকে ধৃতরা হল মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ শাবাত, উমর, মুহাম্মদ লিটন, মুহাম্মদ শাহিদ এবং মুহাম্মদ উজ্জ্বল। তারা সকলেই তিরুপুরের পোশাক কারখানায় কাজ করত। বাংলাদেশি পরিচয় গোপন করার জন্য জাল আধার কার্ড ব্যবহার করত। কলকাতায় ধরা পড়া দুজন হল উমর ফারুক, সে মালদার বাসিন্দা। আর রবিল উল ইসলাম, তার বাড়ি বাংলাদেশে। অর্থাৎ, ধৃত আটজনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক। দিল্লি পুলিশের মতে, তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এই ছ'জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদীদের সহায়তা করার জন্য ভারতের বিভিন্ন শহরে অভিযোগ রয়েছে।

মডিউলের মাথা শাব্বির আহমেদ লোন

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল আরও জানিয়েছে যে, এই জঙ্গি মডিউলের মাথা হল শাব্বির আহমেদ লোন, ওরফে শাব্বির শাহ, যে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল এবং বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। শাব্বির আহমেদ লোনকে ২০০৭ সালে দিল্লিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যখন সে একজন বিশিষ্ট নেতাকে খুনের উদ্দেশ্যে আত্মঘাতী হামলা চালাতে এসেছিল। সেই সময় তার কাছ থেকে একটি AK-47 এবং হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০১৭-১৮ সালে সাজা শেষ করার পর সে লস্কর-ই-তইবায় পুনরায় যোগ দেয়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে জঙ্গি মডিউলটি কলকাতায় একটি ব্যয়বহুল ফ্ল্যাট ভাড়া করে তাদের ঘাঁটি তৈরি করেছিল।

দিল্লিতে সতর্কতা জারি

অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকটি ভিডিও পাওয়া গিয়েছে। যা ইঙ্গিত দেয় যে তারা অস্ত্র সংগ্রহ করছিল এবং সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল দাবি করেছে যে সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে একটি বড় ঘটনা এড়ানো গেছে। একদিন আগে, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সারা দেশের প্রধান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি সতর্কতা জারি করেছিল। এর পরে, দিল্লির লাল কেল্লা এবং চাঁদনি চকে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জনসাধারণকে সতর্ক থাকার এবং যে কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা কার্যকলাপ অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে।