ঘুর্ণিঝড়ের নামকরণের বিষয়টি কিন্তু খুব পুরনো নয়, বরং এই সহস্রাব্দেই তা শুরু হয়েছে। ২০০০ সালে ওমানের রাজধানী মুস্কাটে ডব্লুএমও বা ওয়ার্ল্ড মিটিয়োরোলজিকাল অর্গানাইজেশন ও আরএসএমসি বা রিজিওনাল স্পেশালাইজড মিটিয়োরোলজিকাল সেন্টার-এর সম্মেলনে এই বিষয়ে প্রথম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই দুই সংগঠনের অনুমোদনে ভারত মহাসাগর, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড়গুলির নামকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতের মৌসম ভবনকে।  

সাইক্লোনের নামকরণের সতর্কতা

ওই একই সম্মেলনে ঘুর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের নামকরণের কিছু নিয়ম-নীতি চালু করা হয়। কিছু সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হয় -

১. নাম হবে সংক্ষিপ্ত ও বোধগম্য
২. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীল হওয়া চলবে না
৩. ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে এমন হওয়া চলবে না
৪. একটি নাম একবারই ব্যবহার করা যাবে

ঘুর্ণিঝড়ের নামকরণের পদ্ধতি

নামকরণের অধিকার রয়েছে শুধুমাত্র আরএসএমসি-র সদস্য আটটি দেশ - ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও ওমান-এর। প্রতিটি দেশ আটটি করে পছন্দের নামের তালিকা দিয়েছে দিল্লির মৌসম ভবনে। প্রতিটি দেশকে তাদের ইংরাজী আদ্যক্ষর অনুযায়ী পর পর সাজিয়ে তাদের পাশে পাশে সংশ্লিষ্ট দেশের জমা দেওয়া নামের তালিকা গুলি নির্দিষ্ট কর্মে বসানো হয়েছে। ঘুর্ণিঝড় হলে  পর্যায়ক্রমে নামগুলি ব্যবহার করা হয় (নিচের তালিকা দেখুন)। যেমন এখন 'ফণি' চলছে, যার নাম বাংলাদেশের দেওয়া। পরের ঘুর্ণিঝড়ের নাম হবে ভারতের দেওয়া 'বায়ু'।

যে কেউই কি ঘুর্ণিঝড়ের নামকরণ করতে পারে?

উপরের শর্তগুলি মেনে চললে যে কেউই ঘুর্ণিঝড়ের নামকরণ করতে পারেন। এই ৬৪ টি নাম ফুরিয়ে গেলে ফের নতুন করে নাম নথিভুক্ত করা হবে। যে কেউই তাঁর পছন্দের নাম দিল্লির মৌসম ভবনে, মিটিয়োরোলজি বিভাগের ডিজির কাছে পাঠাতে পারেন। কর্তৃপক্ষের পছন্দ হলে সেই নামটিই নথিভুক্ত করা হতে পারে।