কী ATF সংকটের জেরে Air India-র ১৫% ফ্লাইট বন্ধ হতে চলেছে?IndiGo-ও কি জুন থেকে বহু ফ্লাইট বাতিল করবে?আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ কি ভারতের বিমান পরিষেবাকে নাড়িয়ে দিয়েছে?যাত্রীদের কি এবার আরও বেশি ভাড়া আর কম সিটের সমস্যায় পড়তে হবে?

Air India-IndiGo Flight Cuts: মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের আঁচ এবার এসে পড়ল ভারতের আকাশে। আপনি যদি সামনের দিনে প্লেনে কোথাও যাওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে এই খবরটা আপনার জন্য খুব জরুরি। ভারতের দুই বৃহত্তম বিমান সংস্থা—এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং ইন্ডিগো (IndiGo)—১ জুন থেকে আগামী তিন মাসের জন্য প্রচুর ফ্লাইট বাতিল করার এক বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসুন, এই পুরো সংকট এবং এর পেছনের কারণগুলো এক এক করে জেনে নেওয়া যাক।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আকাশে 'মহাকোপ': ১ জুন থেকে কেন হঠাৎ শয়ে শয়ে ফ্লাইট বন্ধ?

গরমের ছুটি শেষ হতেই দেশের বিমান পরিষেবা ক্ষেত্র থেকে একটি বেশ चौंकानेওয়ালা খবর এসেছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো জুন থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত তাদের ডোমেস্টিক ফ্লাইট ব্যাপকভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার বড় কোপ: টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া তাদের ডোমেস্টিক নেটওয়ার্কে প্রায় ১৫% ফ্লাইট কমাবে।

ইন্ডিগোর ব্রেক: ভারতের সবচেয়ে বড় বাজেট এয়ারলাইন ইন্ডিগো-ও তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ৫% থেকে ৭% কমাবে। ইন্ডিগো দিনে ১,৯৫০টি ফ্লাইট চালায়, তাই এইটুকু কমানোর অর্থও হল রোজ কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল হওয়া।

'হরমুজ প্রণালী'-র সংকট: যুদ্ধের আগুনে কেন পুড়ছে এয়ারলাইন সংস্থাগুলো?

এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ নয়, বরং রয়েছে সীমান্তের ওপারে চলা এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বে।

  • রুট ব্লক: যুদ্ধের কারণে 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের জোগান প্রায় থমকে গেছে।
  • ATF-এর দামে বিস্ফোরণ: সাধারণত, যে কোনও এয়ারলাইনের মোট খরচের ৪০% যায় অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর পিছনে। এয়ার ইন্ডিয়ার সূত্র অনুযায়ী, যে জ্বালানি আগে প্রতি কিলোলিটার ৮০,০০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার দাম ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এত বেশি দামে ফ্লাইট চালানো মানে সরাসরি লোকসান।

র‍্যাডারে কোন কোন শহর? আপনার বুকিং কি বিপদে?

তবে স্বস্তির খবর হল, এয়ারলাইনগুলো কোনও রুট পুরোপুরি বন্ধ করছে না, শুধু ফ্লাইটের সংখ্যা (frequency) অনেক কমিয়ে দিচ্ছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে দিল্লি ও মুম্বই হাব থেকে চলা রুটগুলিতে:

  • মুম্বই থেকে প্রভাবিত রুট: মুম্বই থেকে আমেদাবাদ, নাগপুর, পটনা এবং ভোপাল যাওয়ার ফ্লাইট।
  • দিল্লি থেকে প্রভাবিত রুট: দিল্লি থেকে হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং কলকাতা যাওয়ার ফ্লাইট।
  • ওয়েবসাইট থেকে টিকিট উধাও: যাত্রীদের শেষ মুহূর্তের হয়রানি থেকে বাঁচাতে, এয়ারলাইনগুলো ইতিমধ্যেই তাদের বুকিং ওয়েবসাইট থেকে এই ফ্লাইটগুলি সরিয়ে দিয়েছে।

ছুটির পর মন্দা: এবার কি টিকিটের দাম আরও বাড়বে?

জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি, এয়ারলাইনগুলো এখন 'লিন সিজন' (ব্যবসায় মন্দা)-এর মুখে। জুন মাসে স্কুল-কলেজ খোলার পর এমনিতেই যাত্রী সংখ্যা কমে যায়। ইন্ডিগোর সূত্র জানিয়েছে যে, যাত্রী চাহিদা কমার সম্ভাবনা দেখেই এই পদক্ষেপ নিতে তারা বাধ্য হয়েছে। তবে ফ্লাইট সংখ্যা কমার ফলে একটা বড় প্রশ্ন উঠছে—বাকি রুটগুলিতে কি সিটের জন্য হাহাকার বাড়বে? আর তার জেরে কি আগামী দিনে প্লেনের টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে? এর উত্তর তো সময়ই দেবে।