অসমের শিলচর বিমানবন্দরে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' ধ্বনি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, শিলচরে নির্বাচনী জনসভা করতে আসা অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এআইইউডিএফ দলের প্রধান তথা সাংসদ বদরউদ্দিন আজমল-কে দেখে এই ধ্বনি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের স্বপক্ষে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়। যে ভিডিও-টিতে স্পষ্টই শোনা যাচ্ছে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ'-এর স্লোগান। তবে, এই অডিও আদৌ সত্যি সত্যি ভাইরাল ভিডিও-র কি না তানিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ, এই ভিডিও-র অডিও-র সত্যতা এখনও প্রমাণ করা যায়নি। আর এই অডিও-র সত্যতা পরীক্ষা করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। ভিডিও-টি ভাইরাল হওয়ায় অসম রাজনীতিতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র সেই বিষয়টিকে সামনে রেখে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। কারণ, এই ভাইরাল হওয়া ভিডিও-র অডিও-কে হাতিয়ার করেছেন অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি এই ভিডিওটি টুইট করে এআইইডিডিএফ-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তবে, এই ভিডিও-তে থাকা অডিও-কে মিথ্যা বলে দাবি করেছে এআইইউডিএফ। তাদের দাবি, পাকিস্তান জিন্দাবাদ নয় তাঁরা আজমল জিন্দাবাদ স্লোগান দিচ্ছিল। 

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এখন অসম জুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারসভা চলছে। জানা গিয়েছে নির্বাচনের প্রচারের জন্যই এদিন চার দিনের সফরে শিলচর আসেন বদরউদ্দিন আজমল। বরাক উপত্যকায় ১২ টি আসন জিতবে এআইইউডিএফ বলে, শিলচরে তিনি দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু, এই একটি ভিডিওই তাঁর ও তাঁর দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিতে পারে। বিশেষতঃ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই প্রায় দলমত নির্বিশেষে ওই ঘটনার নিন্দা করেছেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা। অসমের সাধারণ মানুষও এই ঘটনা ভালোভাবে নেয়নি। ভিডিও দেখে কারা কারা এই দেশদ্রোহী কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নএওয়ার আবেদন উঠেছে। যদিও, ভিডিও-র অডিও আদৌ ঘটনাস্থলের না পরে এডিট করে অ্যাম্বিয়েন্স দেওয়া হয়েছে, তার কোনও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে, ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও এখন হইচই ফেলে দিয়েেছে অসমের রাজনীতিতে।

এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সঙ্গে ক্যাপশনে লিখেছেন, পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে স্লোগান দিয়ে যারা সাংসদ বদরউদ্দিন আজমলকে স্বাগত জানিয়েছে, তাদের তিনি নির্লজ্জ মৌলবাদীদের দেশবিরোধী বলে নিন্দা করেছেন। সেইসঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে একহাত নিয়েছেন জাতীয় কংগ্রেসকেও। তাঁর মতে এই ঘটনা সম্পূর্ণরূপে কংগ্রেসের আসল রূপ প্রকাশ করে দিয়েছে। কারণ কংগ্রেস দল এই জোট গড়ে 'এই জাতীয় বাহিনী'কে উৎসাহিত করে। এই শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অসমের এই দাপুটে বিজেপি নেতা।