উপত্যকায় জঙ্গি দমনে বিরাট সাফল্য পেল সুরক্ষা বাহিনী। শুক্রবার সেনা-পুলিশ'এর এক যৌথ অভিযানে দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলায় নিহত হল, কাশ্মীরের অন্যতম জঙ্গি সংগঠন আল বদর গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা শকুর আহমেদ পার্রে। একসময় এই শকুর আহমেদ জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কনস্টেবল-ও ছিলেন। এদিনের অভিযানে আরও তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং আরও একজন জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে।

শুধু আলবদর সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা কমান্ডার শকুর আহমেদ পার্রেই নন, এইদিনের অভিযানে খতম করা হয়েছে সুহেল ভাট নামে আরও এক ডাকসাইটে জঙ্গিনেতাকেও। দিনকয়েক আগেই সে খানমোহের গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানকে অপহরণ করে হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলির লড়াইয়ে চার সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যুর পর অপরজন আত্মসমর্পণ করে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি একে-৪৭ বন্দুক ও তিনটি পিস্তল।

জানা গিয়েছে শোপিয়ানের কিলুড়া এলাকার এক বাগানে ৪ থেকে ৫ জন সন্ত্রাসবাদী আত্মগোপন করেছে বলে খবর পেয়েছিল পুলিশ। সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুরো অঞ্চলটিকে প্রথমে ঘিরে ফেলা হয়েছিল। তারপর শুরু হয়েছিল অনুসন্ধান। সন্ত্রাসবাদীদের সন্ধান পেতেই তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেছিল। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। ধৃত জঙ্গিকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই অভিযানে পুলিশ  বা সেনার কোনও সদস্য নিহত বা আহত হননি।

জানা জম্মু কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ'এর পরই ক্রমে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল এই আল বদর গোষ্ঠী। শাকুর আহমেদ প্রথমে এক বিশেষ পুলিশ কর্তা হিসাবে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশে নিয়োগ পেয়েছিল। পরে পদোন্নতি হওয়ায় কনস্টেবল হয়েছিল। কিন্তু, বছর কয়েক আগে সে চারটি একে-৪৭ বন্দুক নিয়ে বাহিনী ছেড়ে পালিয়ে সন্ত্রাসবাদে যোগ দিয়েছিল। গঠন করেছিল আল-বদর নামে নতুন জঙ্গি গোষ্ঠী। শাকুর-কে নিয়ে উপত্যকায় ১২ জন শীর্ষ কমন্ডারের ৭ জনেরই পতন হল। পুলিশ জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে অবশিষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্যে নভেম্বর থেকে অভিযান আরও বাড়ানো হবে।