ঘটনাটি যতটাই মর্মান্তিক, ততটাই চাঞ্চল্যকর। গুজরাতের ভদোদরায় মদ্যপ স্ত্রীর লাথি খেয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। মৃত্যুর পর খুনি স্ত্রী ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসাবে চালানোরও চেষ্টা করেন। বলেছিলেন, মাতাল অবস্থায় বেকায়দায় পড়ে গিয়ে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু, শনিবহার ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে গত সপ্তাহে ভদোদরার কাছের পাদ্রা গ্রামে। স্বামী রাজেশ মালির সঙ্গে স্ত্রী পুনি মালির প্রায়শই ঝগড়া হত। এর মূল কারণ পুনি মালির নিমিত মদ্যপানের অভ্যাস। সম্প্রতি আরও এক চোট ঝগড়া-মারামারির পর পুনি পাদ্রা গ্রামে তাঁর বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। গত ৩ অগাস্ট রাজেশ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। ফের তাদের মধঅযে একচোট তর্কের পরই প্রচণ্ড রাগে পুণি বারবার রাজেশের বুকে লাথি মেরে তাকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাখি উপলক্ষ্যে রাজেশের বোন তার ভাইয়ের খবর নেওয়ার জন্য ফোন করলে পুনি জানিয়েছিল অতিরিক্ত মদ্যপান করে টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গিয়ে রাজেশের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রাজেশের দেহ তাঁর বাড়িতে আনা হয়। আর তারপরই সন্দেহপ্রবন হয়ে ওঠেন তাঁর মা নর্মদা দেবী।

প্রথমত তাঁর দেহে যে আঘাতের চিহ্ন ছিল, তা পড়ে গিয়ে চোট পাওয়ার মতো নয়। আর রাজেশ মদ্যপান করতচেন কালেভদ্রে, তাও খুবই অল্প পরিমাণে। এরপরই নর্মদা দেবী পুলিশে কাছে অভিয়োগ জানান এবং তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। নর্মদার সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ আগেই পুনি-কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিল। শনিবার ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে রাজেশের খুন হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

ময়না তদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে রাজেশের ফুসফুস মারাত্মকরকম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। তাতেই তার মৃত্যু হয়। তার বেশ কয়েকটি ছাতির হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল, যা থেকে মারধরের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এরপরে পুলিশ পুনি মালীকে চাপ দিতেই সে অপরাধ স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে খুনের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, পুনি স্বীকার রাজেশকে তিনিই হত্যা করেছেন। তার আগে সে পুনিকে তার সঙ্গে বসতে বলেছিল। বাড়ির কাজের দোহাই দিয়ে পুনি চলে য়েতে গেলে রাজেশ তার চুল ধরে টানে। তা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে প্রথমে পুনি তার স্বামীর বুকে একটি ঘুষি মারে। তাতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে একটানা বুক লক্ষ্য করে লাথি মারা শুরু করেছিল পুনি মালি। তারমধ্য়েই মৃত্য়ু হয়েছিল তার স্বামীর।