সুখবর দিয়েই শুরু হচ্ছে নতুন বছর। ২ জানুয়ারি দেশে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কোভিড-১৯ টিকাকরণ অভিযানের ড্রাই রান বা মহড়া করবে কেন্দ্র। এর পাশাপাশি সরকার প্রায় ৮৩ কোটি সিরিঞ্জ কেনার অর্ডার দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও প্রায় ৩৫ কোটি সিরিঞ্জ ক্রয়ের জন্য টেন্ডারও চেয়েছে সরকার। এই সমস্ত সিরিঞ্জ কোভিড টিকা এবং সরকারের অন্যন্য টিকাকরণ কর্মসূচির জন্যও ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র।

ভারত সরকার এদিন, সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে জানিয়েছে মহড়ার দিন, রুক্ষ অঞ্চল এবং লজিস্টিকাল সমর্থন দুর্বল এইরকম অঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ৩টি জায়গায় এই মহড়া টিকাকরণ পরিচালনা করতে হবে। সারাদেশে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মসৃণভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ড্রাইরান পরিচলনা করা হচ্ছে। এদিন, কোভিড-১৯ টিকাকরণের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করার জন্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণের সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন, সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির স্বাস্থ্যসচিব, ন্যাশনাল হেল্থ মিশনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রশাসকরা।

অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাত, পঞ্জাব এবং অসমে কোভিড-১৯ টিকাদান অভিযানের প্রস্তুতি যাচাই করার জন্য ইতিমধ্যেই দুদিনের ড্রাই রান চালানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের সোম ও মঙ্গলবার এই টিকাদেনর মহড়া চলে অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলা, গুজরাটের রাজকোট ও গান্ধীনগর, পঞ্জাবের লুধিয়ানা ও শহিদ ভগত সিং নগর এবং অসমের সোনিতপুর ও নলবাড়ি জেলায়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ড্রাইরান চলাকালীন জেলা প্রশাসনগুলি বিভিন্ন কাজের জন্য একাধিক সুনির্দিষ্ট দল গঠন করেছিল। নকল টিকার সুবিধাপ্রাপ্তদের তথ্য আপলোড, সেশন সাইট তৈরি, ভ্যাকসিন বরাদ্দকরণ, ভোক্তা এবং ভ্যাকসিনেটরদের ভ্যাকসিনের বিবরণ সম্পর্কে জানানো এবং টিকার সুবিধাপ্রাপ্তদের একত্রিতকরণ-এর মতো কার্যক্রমের মহড়া চলে।তা সফল হওয়ার পরই এবার একদিনের জন্য সারা দেশে এই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে।

অন্যদিকে, কোভিড ভ্যাকসিনের জরুরী ব্যবহারের জন্য অনুমোদনের জন্য, ভারত বায়োটেক, সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা) এবং ফাইজার সংস্থার করা আবেদনে বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ২ জানুয়ারিই ফের বৈঠকে বসবে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন-এর সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর)-ই এই কমিটি বৈঠকে বসেছিল। অনুমোদন দেওয়ার আগে, ভারত বায়োটেক, সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া-র কাছ থেকে তাদের তৈরি কোভিড ভ্যাকসিনগুলির সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ফাইজার অবশ্য আগেই এই তথ্য দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে নিয়েছিল।