এনপিআর বা জাতীয় জনগণনা পঞ্জি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ডাকা বৈঠকে অংশ নিল পশ্চিমবঙ্গ বাদে সব রাজ্য। এ দিনের বৈঠক থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে রাজ্যগুলিকে আশ্বস্ত করা হলো, এনপিআর-এ তথ্য দেওয়ার জন্য কাউকেই বাধ্য করা হবে না। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, এনপিআর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এই নিয়ে কোনও রাজ্য সরকারই বাধা দিতে পারবে না।

এনপিআর নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে যে তারা যোগ দেবে না, আগেই লিখিতভাবে তা কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই মতো এ দিন দিল্লির আম্বেদকর ভবনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আয়োজিত বৈঠকে হাজির ছিলেন না রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি। 

যদিও এনপিআর সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরেও এ দিনের বৈঠকে হাজির ছিল কেরল। সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং সেনসাস ডিরেক্টর-দের এ দিনের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এ দিনের বৈঠকের পৌরহিত্য করেন। 

আরও পড়ুন- ফের একমঞ্চে মোদী-মমতা, কোন প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে আমন্ত্রণ

আরও পড়ুন- 'বিষ ছড়ানো নেতারা ঘরে', কাশ্মীর নিয়ে দিদিকে পাল্টা বাবুলের

এ বছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এনপিআর সংক্রান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এনপিআর- এর কাজের জন্য প্রথমে সম্মতি দিয়েও পরে তা বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কারণ রাজ্য সরকার মনে করছে, এই এনপিআর আসলে এনআরসি-র প্রাথমিক ধাপ। এই মনোভাব থেকেই রাজ্যে এনপিআর-এর কাজ করা হবে না বলেই জানিয় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও  কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ দিনের বৈঠকে দাবি করা হয়েছে, এনপিআর-এর জন্য কারও থেকেই জোর করে কোনও তথ্য সংগ্রহ করা হবে না। 

অসমে যেহেতু ইতিমধ্যেই এনআরসি কার্যকর হয়েছে, তাই সেখানে এনপিআর-এর কাজ আর করা হবে না।  এ ছাড়া সব রাজ্যেই এই প্রক্রিয়া চালু হওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় সরকার এনপিআর-এর কাজের জন্য ৩৯৪১.৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।