লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কমার আপাতত কোনও লক্ষণ নেই। প্যাংগং, দোপসাংসহ বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে চিনা সেনা নড়বে না বলেও মনে করা হচ্ছে। তাই সীমান্ত রক্ষায় ভারতীয় সেনাদেরও পাল্টা হিসেবে মোতায়েন থাকতে হবে লাদাখ সীমান্তে। আসন্ন শীতকালেও লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় সেনারা মোতায়েন থাকবে। সেই কারণেই ইতিমধ্যেই তার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। সেনা সূত্রে খবর ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনা বাহিনী চার থেকে পাঁচ মাসের জন্য রসদ, মজুত করেছে পূর্ব লাদাখ সেক্টরের উচ্চ এলাকাগুলিতে। খাবার, জ্বালানি, গোলাবারুদ,ট্যাঙ্কসহ ভারী অস্ত্রও মজুত করা হয়েছে। 


অগাস্ট মাস থেকেই পূর্ব লাদাখ সীমান্তের বেশ কয়েকটি এলাকায় আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই ভারতীয় সেনা বাহিনী জুলাই মাস থেকেই পূর্ব লাদাখ সীমান্তে প্রয়োজনীয় রসদ মজুত করার ওপর জোর দিয়েছিল। সেনা সূত্রের খবর এই কাজটি বিশেষভাবে তদারকি করেছিলেন সেনা বাহিনীর প্রধান এমএম নরাভানে। সূত্রে খবর লজিস্টিক অপারেশনের অংশ হিসেবে টি -৯০ আর টি-২২ ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি বন্দুক চুসুল, ডেমচেক সেক্টরের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে পাঠান হয়েছে। ১৬,০০০ ফুট উচ্চতায় ফরওয়ার্ড এলাকাগুলিতে সেনা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার, পোষাক, তাঁবু, যোগাযোগের সরঞ্জাম, জ্বালানি, হিটার পাঠান হয়েছে। এক সেনা কর্তার কথায় স্বাধীনতার পর চলতি বছর লাদাখে সবথেকে বেশি লজিস্টিক অপারেশন হয়েছে। 
 

প্রবল শীতকালে চিন যদি কোনও সমস্যা তৈরি করে, তাহলে তা মোকাবিলা করার জন্য ইতিমধ্যেই লাদাখে তিরিশ হাজাপ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত লাদাখে বেশ কয়েকটি এলাকার তাপমাত্রা মাইনাস ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে পৌঁছে যায়। কনকনে সেই ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাতে ভারতীয় সেনা বাহিনীর জন্য ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে বিশেষ পোষাক আমদানি করা হয়েছে। সি-১৩০ জে সুপার হারকিউলিস আর সি-১৭ গ্লোবমাস্টারসহ ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রায় সমস্ত পরিবহণ বিমান ও হেলিকপ্টার কয়েক হাজার টন খাবার জ্বালানি আর অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়ে এসেছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমারেখা সংলগ্ন বিমানঘাঁটিগুলিও আগামী চার মাসের জন্য সতর্ক থাকবে বলে সেনা সূত্রে খবর।