দিল্লিতে ত্রিপুরার এক যুবককে উদ্দেশ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং অপমান করার অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শোকিন। ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দিল্লিতে ত্রিপুরার এক যুবককে উদ্দেশ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং অপমান করার অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শোকিন। ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
কী রয়েছে ভাইরাল ভিডিওতে?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ত্রিপুরার এক যুবকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তাঁকে চিনের নাগরিক বলে কটাক্ষ করছেন বলে অভিযোগ আমির শোকিনের বিরুদ্ধে। যুবকের চেহারা নিয়েও বিদ্রূপ করা হয় বলে অভিযোগ। ভিডিওটি সামনে আসার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের প্রতি বর্ণবিদ্বেষ ও বৈষম্যের অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
আমির শোকিনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ
২১ অক্টোবর ত্রিপুরার যুব সংগঠন ইয়ুথ টিপরা ফেডারেশন আগরতলার নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানায় আমির শোকিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সমাজমাধ্যমে প্রচারের জন্য তৈরি ওই ভিডিওতে ত্রিপুরার এক আদিবাসী যুবককে অপমান করা হয়েছে এবং তাঁর প্রতি বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছে। সংগঠনটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ ও সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয়ের আবেদনও করা হয়েছে।
কী বললেন কিরেন রিজিজু?
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা যায় না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দিল্লি ও ত্রিপুরা পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। রিজিজুর বক্তব্য, সমাজে এ ধরনের আচরণ যাঁরা সহ্য করেন, ঘৃণা ছড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁদেরও দায় রয়েছে।
ক্ষমা চেয়ে কী সাফাই দিলেন আমির?
বিতর্কের মুখে ক্ষমা চেয়েছেন আমির শোকিন। তাঁর দাবি, ভিডিওটি আগে থেকে পরিকল্পনা করে তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি নিছক মজার ছলে বানানো হয়েছিল। ভিডিওতে থাকা যুবক তাঁর পরিচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ভিডিওটি যাঁদের আঘাত করেছে, বিশেষ করে ত্রিপুরার বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন আমির। তাঁর এই সাফাই সত্ত্বেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে।
ত্রিপুরার মানুষের প্রতি বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের প্রতি দেশের অন্য প্রান্তে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগকে ফের সামনে এনেছে। কোনও ব্যক্তির চেহারা বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁকে অপমান করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।







