শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে, নয়ডার হলদিরাম ভবনে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করে তীব্র আতঙ্ক ছড়ালো। ৪২ বছর বয়সী এক শ্রমিকের মৃত্যুর হয়েছে। সেখান থেকে আরও ৩০০ জন-কে দ্রুত ওই ভবন থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

জানা গিয়েছে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ এই গ্যাস লিক-এর কথা জানা যায়। সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় ছুটে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী, দমকল বাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। জানা গিয়েছে ওই ভবনে হালদিরামের দুটি ইউনিট রয়েছে - একটি ছিল প্রোডাকশন ইউনিট এবং অন্যটি ছিল মেইন্টেন্যান্স ইউনিট।

এনডিআরএফের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'রক্ষণাবেক্ষণের ইউনিটে প্রায় ২২ জন কর্মী ছিলেন। সেখানে চারটি অ্যামোনিয়া কনডেন্সার ভালভের মধ্যে একটি থেকে গ্যাস লিক করে। ২২ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সঞ্জীব কুমার এক অ্যামোনিয়া অপারেটরকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি মারা যান।

এছাড়া প্রোডাকশন ইউনিটে ৩০০-রও বেশি শ্রমিক ছিল। তাদেরকেও তৎক্ষণাৎ সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বিল্ডিংটি আপাতত একেবারে জনমানবহীন করে দেওয়া হয়েছে।

৪৭ জন সদস্যের এনডিআরএফের একটি দল, দমকলকর্মীরা ও নয়ডা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে বিকেল তিনটে নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। দমকল বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অ্যামোনিয়াকে নিষ্ক্রিয় করতে প্রথমে বাতাসে জল স্প্রে করা হয়। তারপর ভালভের ফুটোটি পরীক্ষা করতে কনডেন্সারগুলিতে অ্যামোনিয়া দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। মূল গ্যাসের পাইপলাইনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। উচ্চ ঘনত্বের অ্যামোনিয়া গ্যাসের থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে চোখ, নাক, গলা এবং শ্বাসনালী জ্বালা করতে পারে। এছড়া অন্ধত্ব, ফুসফুসের ক্ষতি বা মৃত্যু-ও ঘটতে পারে।