দুই মেয়েকে প্রায় এক সঙ্গেই খুন করেছিল উচ্চ শিক্ষিত বাবা মা। কিন্তু তারপরেও তাদের দুজনের মধ্যে কোনও অনুতাপ বা অনুশোচনা দেখা গেল না। অধ্যাপক দম্পতি নিজেদের হেপাজতে নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে অন্ধ্র প্রদেশের পুলিশ। সূত্রের খবর পুলিশের জেরার তারা নাকি বারবার বলছে, মেয়েদের নিথর শরীরে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। আর তারা প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারবেও। এরই মধ্যে সন্তান হন্তা অধ্যাপক দম্পতির মেডিক্যাল চেকআপ করতে গিয়ে রীতিমত কালঘাম ছুটে গেছে অন্ধ্র প্রদেশের পুলিশের। 

মঙ্গলবার দুই মেয়েকে খুনে অভিযুক্ত পদ্মজা ও তার স্বামী ৫৫ বছরের পুরুষোত্ত নাইডুকে বাধ্যতামূলক কোভিড পরীক্ষা করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে গিয়ে করোনা করোনা পরীক্ষা করাতে বেঁকে বসে ৫০ বছরের পদ্মজা। পুলিশ সূত্রের খবর সে দাবি করেছিল, সে শিব, আর শরীর থেকেই জন্ম হয়েছে করোনাভাইরাসের। আগামী মার্চ মাসেই এই করোনাভাইরাস শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তারজন্য কোনও ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে না। পদ্মজা আরও বলেছিল, তার গলায় বিষ রয়েছে। করোনাভাইরাসের জন্য তার পরীক্ষা করার কোনও প্রয়োজন নেই।  পদ্মজা এইসব কথা এক স্বাস্থ্য কর্মীকে বলেছিল। আইআইটি কোটিং ইনস্টিটিউটে কর্মরত গণিতে স্নাতকোত্ত পদ্মজা নাইডুর মুখে এই কথা শুনে রীতিমত চমকে গিয়েছিলে হাসপাতালের কর্মীরা। তবে পদ্মজার তুলনায় তার স্বামী স্থানীয় সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ কিছুটা শান্ত ছিল। সেও প্রথম প্রথম দিনে কোভিড পরীক্ষা করাতে রাজি হয়নি। 

গত ২৪ জানুয়ারি অন্ধ্র প্রদেশের চিত্তরের একটি অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল দুই কন্যার রক্তাক্ত নিথর দেহ। প্রাথমিক তদন্তের পুলিশের অনুমান তন্ত্র সাধনার জন্য নিজেদের দুই সন্তানকে বলি দিয়েছিল বাবা মা। প্রথমে ছোট মেয়েকে বলি দেওয়া হয়েছিল পরবর্তীকালে খুন করা হয় বড় মেয়েকে। পুলিশ সূত্রের খবর খুনের পরেই দম্পতি ঘনিষ্ট মহলে জানিয়েছিল কলিযুগ শেষ হয়েগেছে। সত্যযুগ শুরু হবে সোমবার থেকে। খুনের খবর পেয়ে পুলিশ দম্পতিকে গ্রেফতার করতে গেলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছিল লকডাউনের সময় থেকেই নাউডু দম্পতির আচার অচরণে পরিবর্তন হয়। প্রতি রবিবাবর রাতে দম্পতি অদ্ভূত আচরণ করত। বাড়ি থেকে শোরগোল আর কান্নার আওয়াজ পাওয়া যেত। পুলিশ তাদের বাড়িতে গেলে দম্পতি পুলিশকে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে পুলিশ দুজনকেই গ্রেফতার করে। 

উচ্চ শিক্ষিত বাবা মায়েরকাণ্ড দেখে হিম হয়ে যাবে রক্ত, একসঙ্গে দুই মেয়েকে খুন করল দম্পতি

একা অভিনেতা দীপ সিধু নয়, কৃষকদের প্যারেডে হিংসার ঘটনায় হাত ছিল এক গ্যাংস্টারেরও ...

তদন্তের পর অন্ধ্র প্রদেশের পুলিশ জানিয়েছে সন্তান খুনে মূল অভিযুক্ত বাবা পুরুষোত্তম নাইডু। মেয়েদেরকে খুনে স্বামীকে পুরোপুরি সাহায্য করেছিল স্ত্রী পদ্মজা। দুজনের বিরুদ্ধেই হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দম্পতি মানসিক বিকারগ্রস্ত। তারা দুজনেই বিশ্বাস করত তাদের মেয়েদের হত্যা করার সঙ্গে সঙ্গে কলিযুগের শেষ হবে। তাদের নতুন জন্মের সঙ্গেই বিশ্বে পরিবর্তিন শুরু হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেম পদ্মজা  শেয়ারড সিনড্রমে আক্রান্ত। লকডাউন চলার সময় থেকেই দম্পতি পুজো শুরু করে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। কিন্তু সেই সময় থেকে তারা পুরোপুরি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যা তাদের  প্রভাবিত করতে শুরু করে।তাদের মেয়েরাও মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।