অবশেষে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডির প্রস্তাব মেনে নিল অন্ধ্র বিধানসভা। রাজ্যের স্থানান্তরিত করা নিয়ে আনা বিশেষ বিল পাশ হয়ে গেল বিধানসভায়। বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভের মাঝেই সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় পাশ হয়ে যায় তিন রাজধানীর প্রস্তাব। 

অন্ধ্রে তিন রাজধানীর পরিকল্পনা করেছেন জগন্মোহন রেড্ডি। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী অমরাবতী হবে আইনবিভাগীয় রাজধানী, অর্থাৎ বিধানসভা থাকবে এখানে। প্রশাসনিক রাজধানী হবে বিশাখাপত্তনমে। অর্থাৎ রাজ্যের মূল প্রশাসনিক ভবনটি থাকবে বন্দর শহরে। আর বিচারবিভাগীয় রাজধানী হবে কুর্নুল। এখানে থাকবে অন্ধ্র হাইকোর্ট। 

আরও পড়ুন: পাঁচতারা হোটেলের লবিতে হাল্কা মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে অতিথি বুনো হাতি, ভাইরাল হল ভিডিও

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু অমরাবতীকে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেইকারণে অমরাবতীতে উন্নয়ন খাতে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেছিল তৎকালীন অন্ধ্র সরকার। উন্নয়নের কাজও চলছিল জোরকদমে। কিন্তু চন্দ্রবাবুর পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন  অন্ধ্রে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা ওয়াইএসআর কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি। 

নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে অন্ধ্র বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিলেন জগন। কিন্তু শাসকদল  ওয়াইএসআর কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতায় নেমেছে  বিরোধী দলগুলি। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় অন্ধ্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ও অন্যান্য টিডিপি বিধায়কদের আটক করে পুলিশ। তিনটি রাজ্যে রাজধানী গড়ে তোলার বিলে তীব্র বিতর্ক চলাকালীন টিডিপি-র ১৭ জন বিধায়ককে বিধানসভা থেকে বরখাস্ত করার পরে তেলগু দেশম পার্টির সভাপতি ও অন্যান্য দলের বিধায়করা অমরাবতীতে একটি পদযাত্রায় অংশ নেন। 

আরও পড়ুন: করোনা ভাইরাস চিনে প্রাণ কাড়ল আরও একজনের, সতর্ক হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশও

এদিকে বরখাস্ত হওয়ার পর টিডিপি বিধায়করা জগন সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ-অবস্থান করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি রাজনৈতিক স্বার্থের জন্যই রাজ্যটিকে ধ্বংল করছেন। রেড্ডিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জিও জানান তিনি।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,  তিনটি রাজধানীর বিষয়টি বিশ্বের কোথাও সফল হয়নি।

এদিকে জগন্মোহন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্রমেই উত্তাল হচ্ছে অমরাবতী। গত সাতদিন ধরে অমরাবতীর ২১টি গ্রামের বাসিন্দা বিক্ষোভ দেখিয়ে চলেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন টিডিপির একাধিক নেতাও।