বেসরকারি চাকরিতেও এবার সংরক্ষণ চালু হয়ে গেল। দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে এই সংরক্ষণ চালু করল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি সংস্থা, কল, কারখানার পচাত্তর শতাংশ চাকরি অন্ধ্রের বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। 

আরও পড়ুন- বাড়বে চাকরি, চাঙ্গা হবে অর্থনীতি, মোদী সরকারকে পথ দেখাল আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট

সোমবারই সংরক্ষণ চালু করতে নতুন আইন পাশ হয়েছে অন্ধ্র বিধানসভায়। নির্বাচনের প্রচার পর্বে এই সংরক্ষণ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অন্ধ্রের প্রধানমন্ত্রী ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডি। প্রসঙ্গত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অন্ধ্রে সরকার গঠন করেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস সরকার। 

নতুন আইন অনুযায়ী সরকারি- বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বে যে কারখানাগুলি চলছে, তাদেরকেও এই নিয়ম মানতে হবে। শুধুমাত্র পেট্রোলিয়াম, ওষুধ উৎপাদন, কয়লা, সার এবং সিমেন্টের মচো কয়েকটি সংস্থাকে আবেদন খতিয়ে দেখার ভিত্তিতে এই আইনের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। 

অনেক দিন ধরেই বেসরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের কথা ভাবছে বেশ কয়েকটি রাজ্য। সেই তালিকায় রয়েছে মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, গুজরাট মহারাষ্ট্র। কিন্তু কেউই এই সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করেনি। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ তো কয়েকদিন আগেই বলেছেন, বেসরকারি চাকরিতে সত্তর শতাংশ সংরক্ষণের জন্য আইন প্রণয়ন করবেন তাঁরা। 

অন্ধ্রের নতুন আইনে বলা হয়েছে, যদি নিয়োগের জন্য স্থানীয়দের মধ্যে থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ লোক না পাওয়া যায়, তাহলে হয় নিজেদের উদ্যোগে নয়তো রাজ্য সরকারের সাহায্য নিয়ে সেই চাকরিপ্রার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সংস্থাগুলিকে নিয়োগ করতে হবে। এই শর্তের ফলে আইনকে ফাঁকি দিয়ে নিয়োগ করার সুযোগও থাকছে না সংস্থাগুলির কাছে। সব সংস্থাকেই তিন বছরের মধ্যে নতুন নিয়ম মানতে হবে। 

শিল্প মহল এই আইনের বিরোধিতা না করলেও সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর উপরে জোর দিয়েছে। তবে অনেকেরই আশঙ্কা, এর জেরে অন্ধ্রে বিনিয়োগের থেকে মুখ ফেরাতে পারে বহু সংস্থা।