করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিহত করতে এবার অ্যান্টিসেরা-র ওপরই ভরসা রাখছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ। আর সেইজন্যই ঘোড়া থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডিগুলির ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার পথেই হাঁটছে। তাতে ছাড়পত্র দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। আইসিএমআর এর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে হায়দারাবাদেরর একটি বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা, বায়োলজিক্যাল ই ফার্মের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঘোড়ার অ্যান্টিবডি থেকে একটি ইনজেশন তৈরি করেছে। আগামী দিনে তারই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে। 


আইসিএমআর এর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, তাঁর বেশ কিছু পরীক্ষা করেছেন। তাতে সাফল্য পাওয়া গেছে। সংস্থার দাবি ঘোড়ার রক্তের সেরাম থেকে নেওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা গেছে তা ভাইরাল প্রোটিনকে নষ্ট করে দিতে পারে। সেরাম থেকে অ্যান্টিবডি আলাদা করে নিয়ে বিশেষ উপায়ে বিশুদ্ধকরণ করে তা সরাসরি মানুষের দেবে প্রয়োগ করা হবে। ইনজেকশনের মাধ্যমেই তা মানুষের দেহে প্রয়োগ করা হবে।  প্লাজমা থেরাপি ঠিকমত কাজ না করায় এই পথেই হেঁটেছে আইসিএমআর। এটিও অনেকটা প্লাজমা থেরাপির মত। প্লাজমা থেরাপিতে আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে ওঠার পর নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে তাদের শরীর থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করা হয় রক্তের মাধ্যমে। আর এক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করা হয় পশুর শরীর থেকে। 

শুধু ভারত নয় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে পশুর শরীর থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে ওষুধ তৈরির চেষ্টা চলছে। পশুদের রক্তের সেরাম বা অ্যান্টিসেরা থেকে অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং করার কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। অ্যান্টিসেরা হল রক্তের সেরাম যার মধ্যে নমোক্লোনাল ও পলিক্লোনার অ্যান্টিবডি রয়েছে। এই অ্যান্টিবডি শরীরেইনজেক্ট করলে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। যেহেতু বাইরে থেকে অ্যান্টিবডিশরীরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় তাই প্যাসিভ ইমিউনিটি বলে এই বিষয়টিকে। ভাইরাল বা ব্যাকটিরিয়াজনিত সংক্রমণের থেরাপিতে অ্যান্টিসেরা প্রয়োগ করা হয়। এই সেরাম থেরাপিকে সেরোথেরাপি বলে।