শুক্রবারই জানা গিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা নিয়ে লকডাউনের মধ্য়ে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরও, জোম্যাটো সংস্থার ১৫ শতাংশ কর্মীর চাকরি চলে যাচ্ছে। বাকি কর্মীদের মাইনেতেও হতে চলেছে কাট-ছাঁট। বস্তুত, শুধু জোম্যাটো নয়, করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের ধাক্কায় ভারতের প্রায় প্রতিটি ছোট-বড় সংস্থা হয় কর্মীদের ছাঁটাই-এর পথে যাচ্ছে, নয়তো বেতন কমিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে দৈত্যকূলে প্রহ্লাদ একমাত্র একটি সংস্থা।

ভারতের বৃহত্তম পেইন্ট অর্থাৎ ঘরবাড়ির রঙ প্রস্তুতকারী সংস্থা এশিয়ান পেইন্টস কর্মচারী মনোবল বাড়ানোর জন্য একেবারে স্রোতের বিপরীতে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি এবং স্বাস্থ্যবীমা, অংশীদার স্টোরগুলির জন্য সম্পূর্ণ স্যানিটাইজেশন সুবিধা এবং সরাসরি নগদ সহায়তা-সহ বিক্রয় কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। ঠিকাদারদের অ্যাকাউন্টেও মোট ৪০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য গত এক বছরে এশিয়ান পেইন্টস-এর শেয়ার ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এশিয়ান পেইন্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমিত সিঙ্গেল বলেছেন, তাঁরা চেয়েছিলেন সত্যিকারের নেতৃত্ব দেওয়া কাকে বলে তার উদাহরণ স্থাপন করতে চেয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেছেন, এশিয়ান পেইন্টস সংস্থা তার সমস্ত অংশীদারদের যত্ন নেয়। তিনি আরও বলেন, 'আমি এই জাতীয় সমস্ত উদ্যোগের বিষয়ে বোর্ডের সদস্যদের নিয়মিত আপডেট দিয়ে যাচ্ছি এবং এই ক্রিয়াকলাপের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তাদের অনুমোদন পেয়েছি। আমি এটাকে প্রতিটি কর্মচারীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার এবং একটি অনিশ্চিত বাজারে তাদের উদ্বেগকে আশ্বস্ত করার একটি বড় সুযোগ হিসাবে দেখছি। আমরা নিয়োগ এবং ছাঁটাই পদ্ধতিতে বিশ্বাসী নই। একটি পরিণত ব্র্যান্ড হিসাবে আমরা কর্মচারীদের আশ্বাস দিয়েছি যে আমরা সকলেই এতে (এই বিপর্যয়ে) একসঙ্গে আছি।'

কর্মীদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার পাশাপাশি এই সংস্থাটি কেন্দ্র এবং রাজ্যসরকারগুলির কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলে মোট ৩৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশকে সহায়তা করার  জন্য 'ভাইরোপ্রোটেক' ব্র্যান্ডনামের আওতায় তারা হাতের এবং তলের জন্য স্যানিটাইজারও তৈরি করছে।