গত জুলাই মাসেই সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বাম জোট এলডিএফ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বলে জানিয়ে দিয়েছিল এশিয়ানেট নিউজ এবং সমীক্ষা সংস্থা সি-ফোর'এর করা সমীক্ষা। বলা হয়েছিল কেরলে-র স্থানীয় নির্বাচনে জয়জয়কার হতে চলেছে পিনারাই বিজয়ন সরকারের। কার্যক্ষেত্রে তাই ঘটল। বুধবার কেরলে যে ফল প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে সমীক্ষার ফল একেবারে মিলে গিয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, কোভিডের আগে-পরে অনেকটাই পাল্টে গিয়েছিল কেরলের রাজনৈতিক চিত্র। কেরল-এর বেশিরভাগ মানুষ কোভিড মহামারি মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা এবং ফলাফলে কমবেশি সন্তুষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পিনারাই বিজয়ানের কাজে মুগ্ধ। সমীক্ষার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন এলডিএফ পেতে পারে ৪৫ শতাংশ ভোট। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ পেতে পারে ৩৯ শতাংশ ভোট। আর বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের ঝুলিতে আসবে ১৮ শতাংশ ভোট।

আসন্ন নির্বাচনে কোভিড মহামারি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তারও মূল্যায়ন করেছিল এশিয়ানেট। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছিল কোভিড মোকাবিলায় কেন্দ্রের সহায়তায় রাজ্য  কি উপকৃত হয়েছে? ৬৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছিলেন হ্যাঁ, কেন্দ্রের সাহায্য রাজ্যের খুবই কাজে লেগেছে। ৩৩ শতাংশ মানুষ অন্য কথা বলেছিলেন। তবে তাতে বিজেপির খুব একটা লাভ যে হবে না, তা সমীক্ষাতেই বোঝা গিয়েছিল। মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের কোভিড নীতিগুলি কেরলে বিজেপির সহায়ক হবে। বাকি ৬৭ শতাংশই এই ভাবনার সঙ্গে সহমত হননি।

কোভিড পরিস্থিতি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটকে বিশেষ সুবিধা দেবে বলেছিল কেরলবাসী। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬২ শতাংশ জানিয়েছিলেন কোভিড সুবিধা দিচ্ছে ইউডিএফকে। বাকি ৩৮ শতাংশ ভিন্ন মত দিয়েছিলেন। তবে বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা কেএম মানি-র মৃত্যু এবং হোসে কে মানি-র ইউডিএফ ত্যাগ ইউডিএফ জোটকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বেশিরভাগ মানুষ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৬ শতাংশ এই বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিলেন।

বুধবারই কেরলের ৯৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৬টি পুর কর্পোরেশন, ১৪টি জেলা পরিষদের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের সেমিফাইনাল হিসাবে পরিচিত এই নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে বামপন্থীরা। এলডিএফ জোট জিতেছে ৫১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৫টি পুর কর্পোরেশন এবং ১১টি জেলা পরিষদ। ইউডিএফ গত লোকসভা নির্বাচনে ২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে জিতলেও এই নির্বাচনে মাত্র ৩৭৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত,৩টি জেলা পরিষদ ও মাত্র ১টি পুর কর্পোরেশনে জয় পেয়েছে। সেখানে বিজেপি বা এনডিএ ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত জিতেছে। কাজেই এশিয়ানেট নিউজ ও সি-ফোর'এর প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষা যে ঠিকই আভাস দিয়েছে, তা প্রমাণিত হল।

১৮ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছিল এশিয়ানেট নিউজ ও সি-ফোর। ৫০ টি বিধানসভা কেন্দ্রের ১০,৪০৯ জন ভোটার এই সমীক্ষায় মতামত জানিয়েছিলেন।