উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-কে বলা হচ্ছে বিজেপির মডেল মুখ্যমন্ত্রী বা আদর্শ মুখ্যমন্ত্রী। কৃষক বিক্ষোভের আঁচ থেকে মোদী সরকারকে বাঁচাতে বৃহস্পতিবার মডেল মুখ্যমন্ত্রী ফেললেন রাম মন্দির তাস। এদিন তিনি অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলগুলিকে কৃষকদের ব্যবহার করে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। তাদের আসল অসন্তোষের কারণ হল অযোধ্যায় রাম মন্দিরের নির্মাণ। সেই  অসন্তুষ্টিই তারা কৃষক বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করছে।

কৃষকদের কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি আইন নিয়ে বোঝাতে বিজেপির পক্ষ থেকে জায়গায় জায়গায় কৃষক সভার আয়োজন করা হচ্ছে। ভারত যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রেষ্ঠ ভারতে পরিণত হচ্ছে তা বিরোধীদের পছন্দ হচ্ছে না। সেই হিংসা থেকেই কৃষকদের ধরণা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রথমে কৃষকদের দাবি ছিল এমএসপি বা ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের নিশ্চয়তা। কেন্দ্রীয় সরকার সেই বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়ার পরও কেন কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সেই প্রশ্ন তোলেন যোগী। নিজেই এর উত্তর দিয়ে বলেন, অযোধ্যাতে একটি দুর্দান্ত রাম মন্দির নির্মিত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার নির্মাণ শুরু করেছেন, এতে করে বিরোধীরা রেগে যাচ্ছে। তাই কৃষকদের বিভ্রান্ত করছে।

এছাড়া ওই সভায় ছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্য়মন্ত্রী ভারতীয় কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর 'অভূতপূর্ব প্রচেষ্টার' ভূয়সী প্রশংসা করেন। যোগী কমিউনিস্টদের আক্রমণ করে বলেন, তারাই দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর মতে কমিউনিজমের তত্ত্বটিই মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে। শতবার মিথ্যা কথার পুনরাবৃত্তি করে তারা মিথ্য়াকে সত্যি বানান। কৃষকদের জীবনে পরিবর্তন আসুক চান না বলেই কমিউনিস্টরা এই আন্দোলন করছে বলে জানান তিনি।

গত তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের নতুন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লির সীমান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মূলতঃ পঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা হাজার হাজার কৃষক। বেশ কয়েকটি বৈঠক করেও এই সমস্যার সমাধান করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টও বৃহস্পতিবারই কৃষকদের বিক্ষোভে নাক গলাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কৃষকদের ব্যক্তিগতভাবে একটি চিঠিও লিখেছেন কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। এর আগে খালিস্তানিদের আন্দোলন, কমিউনিস্টদের আন্দোলন, রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর আন্দোলন - নানাভাবে কৃষকদের এই বিক্ষোভকে লঘু করে দেখাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির। এবার স্বয়ং ভগবান রাম, নরেন্দ্র মোদী সরকারকে এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে কি না, সেটাই দেখার।