ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় অসমের বরাক উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে ভোটযন্ত্রগুলি বেসরকারি গাড়িতেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। নির্বাচন কমিশন  বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পালের গাড়িতেই ইভিএমগুলি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে সূত্রের খবর। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানায় বিরোধীরা।  বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা বেসরকারি গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকে শূণ্যে গুলি চালাতে হয়। আর লাঠি চার্জও করতে হয়। 


গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আসমের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হয়েছিল। ৭৭.৭৭ শতাংশ ভোটও পড়েছিল। কমিশন জানিয়েছে মোটের ওপর ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ। শুধুমাত্র করিমগঞ্জেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। আর করিমগঞ্জের অশান্তির ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়ে যায় নিমেষে। আর এই ঘটনায় কমিশনের সমালোচনায় সরব হয় নেটিজেনরা। অসমের বিরোধী দলগুলিও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে। 
করিমগঞ্জের রত্নগিরি কেন্দ্রের ভোট কর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন একটচি গাড়ি বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সেই গাড়িটি খারাপ হয়ে যায়। ভোট শেষে প্রিসাইডিং অফিরাস সেক্টর অফিসারকে বিকল্প গাড়ির ব্যবস্থা করতে বলেন। 

তারপরই ভোট কর্মীরা একটি বেসরকারী গাড়িতে ওঠেন। কে ওই গাড়িটি বরাদ্দ করেছিল তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। ঘটনাচক্রে ওই গাড়ির মালিক পাথরকান্দির বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পাল। ভোট কর্মীরা ওই গাড়িতে করে স্ট্রংরুমের কাছে যেতেই বিজেপি প্রার্থীকে চিনতে পারেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা। বিরোধীরাই গাড়িটি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রথম দফায় চম্পট দেয় পুলিশ। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী পাঠান হয়। উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে দিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

 

কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে অসমের রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি ইভিএম চুরি করছে বলে অভিযোগ তুল সরব হয় কংগ্রেস। গৌরব গগৈ বলেন, অসমে ভোটে জেতার জন্য বিজেপি ইভিএম লুঠ করতেও পিছপা হচ্ছে না। এভাবেই বিজেপি অসমে ভোটে জিততে চায়। আর  সবকিছুই হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ছত্রছায়া। এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র কে আসরে নেমেছে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী বদরুদ্দিন আজমল। তিনি বলেন মেরুকরণ, ভোট কেনা, প্রার্থী কেনা, জুমলাবাজি, সিএএ- সমস্ত ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে বিজেপি যখন অসফল তখনই ইভিএম লুঠকে গণতন্ত্রকে হত্যা করে ভোটে জিততে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। 

এই ঘটনায় বিজেপিকে সিরিয়াল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন সমস্ত জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এবার ইভিএম-এর ব্যবহার পুর্ণমূল্যায়ণের সময় এসে গেছে। 


এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কিছুই জানায়নি। তবে প্রশাসন থেকে জানান হয়েছে উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে দিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। ইভিএম-এর কোনও ক্ষতি হয়নি বলেও জানান হয়েছে।