লোকসভা ভোটের উত্তেজনার মধ্য়েই ফের একবার দেখা গেল গোরক্ষকদের তাণ্ডবের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে অসমে। অভিযোগ গোমাংস বিক্রির সন্দেহে ৬৮ বছরের এক মুসলিম বৃদ্ধকে গণ-হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। তাঁকে জোর করে শুকরের মাংসও খাইয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রশানের উপর চাপ বাড়ে। অবশেষে মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু করল পুলিশ।

এদিন অসমের ডিজিপি জানান, ওই ভিডিও-র ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে অসম পুলিশ। একজনকে ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও এই বিষয়ে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওই পুলিশ কর্তা। তাঁর দাবি সব অভিযুক্তকেই যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতার করা হবে।

অথচ ঘটনাটি কিন্তু ঘটেছে দুইদিন আগে। ঘটনাস্থল বিশ্বনাথ চরিয়ালি। পুলিশ জানিয়েছে ওই বৃদ্ধের নাম শওকত আলি। স্থানীয় এক বাজারে মাংসের বিভিন্ন পদের একটি খাওয়ারের দোকান চালান তিনি। ভাইরাল ভিডিওয় দেখা গিয়েছে শওকতকে কাদার মধ্যে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে রেখেছে ক্ষুব্ধ জনতা। তিনি কেন গোমাংস বিক্রি করছেন বারবার তা জিজ্ঞেস করা হয়। তাঁর নাম এনআরসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়।  সবশেষে তাঁকে শুয়োরের মাংস খেতে বাধ্য করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শওকতকে বাঁচাতে গিয়ে জনতার ক্ষোভের শিকার হতে হয় বাজারের ম্যানেজার কোমল থাপা-কেও। জানা গিয়েছএ, স্থানীয় কয়েকজন যুবক ৭ এপ্রিল তারিখে ওই বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করতে গিয়েছিল। শওকত টাকা দিতে রাজি না হওয়াতেই ঝামেলার সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনার জলই গোমাংস বিক্রির অভিযোগ পর্যন্ত গড়ায়। যদিও অসমে গোমাংস বিক্রি বেআইনি নয়।

এর আগে তিনসুখিয়াতে পাঁচ বাঙালি যুবককে হত্য়া-সহ গত কয়েক বছরে বিজেপি শাসিত এই রাজ্য বারবারই গণরোষের ঘটনার জেরে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। ভোটের মুখেও সেই ঘটনাপ্রবাহে লাগাম লাগল না।