আত্মনির্ভর ভারত গঠনের লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ও প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেছেন দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আরও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আত্মনির্ভর ভারত ৩.০ প্রকল্পের আওয়ার এই প্রকল্প ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। 


১. কর্ম সংস্থান তৈরিতে জোর- কর্ম সংস্থান তৈরির ওপর জোর দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন প্রকল্প চালু করেছে। যাতে নতুন কর্মী নিয়োগ করায় কিছুটা হলেও ছাড় পাবে সংস্থাগুলি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহামারির সময় কাজ হারানো শ্রমিকরা যাতে কাজ পেতে পারেন সেদিকেই জোর দেওয়া হয়েছে। 
২. এমএসএমই-তে মুদ্রা ঋণ- ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের জন্য ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিমের মেয়াদ ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে  ঋণের পরিমাণ ৫০-৫০০কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৫ বছর এই সেক্টরে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্য পরিষেবাও এই মধ্যে যুক্ত রয়েছে।

৩. উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর- ১০টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের অন্তর্গত এই প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকীদের উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। 

৪. আবাস যোজনা- প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ানো হয়ে ব্যয় বরাদ্দ। ১৮ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যায় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ১২ লক্ষ ঘর ও ১৮ লক্ষ বাড়ি নির্মাণে সাহায্য করা হবে। নির্মান শিল্পে ৭৮ লক্ষ কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

৫. নির্মাণ শিল্পে জোর- নির্মাণ ও অবোকাঠামো খাতে চুক্তিতে পারফরন্যান্স সুরক্ষা হ্রাস করা হবে। ৫-১০ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হবে। দরপত্রের জন্য ইএমডির প্রয়োজন হবে না। বিড সুরক্ষা ঘোষণার দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হবে। শিথিলিকর্ণ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। 

৬. ইনকম ট্যাক্সে স্বস্তি- মধ্যবিত্তের জন্য ইনকম ট্যাক্সে স্বস্তির বার্তা দিলেন নির্মলা সীতারমন। ২ কোটির টাকা পর্যন্ত বাড়ি কেনার জন্য বিক্রেতা আর গৃহ ক্রেতার জন্য কর ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত কর ছাড় দেওয়া হবে। রিয়েল এস্টেট আয়করের সার্কেল রেট ও চুক্তির মূল্যের মধ্যে পার্থক্য ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। 

৭.   পরিকাঠামো ক্ষেত্র- বিনিয়োগকারী অবরাঠামো তহবিলের ডেবিট প্ল্যাটফর্ম ৬ হাজার কোটি টাকার ইক্যুইচি আদান প্রদান করবে। যা এনয়আইআইএফরে ২০২২ সালের মধ্যে পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির আর্থায়নের জন্য ১.১ লক্ষ কোটি টাকা জোগাড় করতে সহায়তা করবে। 

৮. কৃষি ক্ষেত্র- কৃষকদের জন্য ৬৬ হাজার কোটি টাকার সার ভর্তুকি দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

৯. গরীব কল্যাণ রোজগার- চলতি অর্থবর্ষে প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ রোজগার যোজনার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। 

১০. আইডিএএস স্কিম- কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন ৩ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করার  পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে আইডিএএস প্রকল্পের মাধ্যমে। রফতানির জন্য ইএক্সআইএম ব্যাঙ্কে দেওয়া হবে। 

১১. প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম- শিল্প পরিকাঠামো এবং সবুজ জ্বালানিতে মূলধন ও শিল্পের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ধার্য করা হয়েছে। 

১২. করোনার প্রতিষেধক- কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী করোনাভাইরাস আবিষ্কারের জন্য ৯০০ কোটি টারা গবেষণা ও উন্নয়ন অনুদানের কথা ঘোষণা করেছেন।