সারা বিশ্বে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর রিফাইনারিগুলোতে উৎপাদন কমার ফলে বিমানের জ্বালানির অভাব দেখা দিয়েছে। এর জেরে বিমান সংস্থাগুলোর খরচ বাড়ছে। ম্যাকিঞ্জি-র একটি রিপোর্ট বলছে, এর ফলে টিকিটের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিমানের টিকিট কেটে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন? তাহলে আপনার জন্য একটা খারাপ খবর আছে। খুব শিগগিরই বিমানের টিকিটের দাম অনেকটাই বাড়তে পারে। সৌজন্যে, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক সংকট এবং রিফাইনারিগুলিতে উৎপাদন কমে যাওয়া। এর ফলে বিমানের জ্বালানির (Aviation Fuel) জোগানে भारी ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে সতর্ক করেছে বিখ্যাত কনসাল্টিং ফার্ম ম্যাকিঞ্জি (McKinsey)।

সামনেই গরমের ছুটির মরসুম, তাই যাত্রীদের চাপও বাড়বে। কিন্তু সেই তুলনায় বিমানের জ্বালানির জোগান এখন খুবই কম। মূলত অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামের অস্থিরতাই এর প্রধান কারণ। তার উপর, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ বিমানের জ্বালানি সরবরাহকারী উপসাগরীয় এবং এশীয় দেশগুলির রিফাইনারিগুলিতে উৎপাদন কমেছে। সাধারণত, একটি বিমান টিকিটের দামের প্রায় ৩০ শতাংশই থাকে জ্বালানির খরচ। ম্যাকিঞ্জি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হলে টিকিটের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
রিপোর্টে 'ক্র্যাক স্প্রেড' (Crack Spread)-এর কথাও বলা হয়েছে। সহজ কথায়, এটি হল অপরিশোধিত তেল এবং তা থেকে তৈরি হওয়া জ্বালানির দামের পার্থক্য। আগে এই পার্থক্যটা প্রতি ব্যারেলে ২০ ডলার বা তার কম ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে তা গড়ে ৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংকটের আগে থেকেই বিশ্বের বেশিরভাগ রিফাইনারি তাদের ক্ষমতার শীর্ষে কাজ করছিল। তাই হঠাৎ করে উৎপাদন বাড়ানোও সম্ভব নয়। আপাতত পুরনো মজুত ভান্ডার ব্যবহার করে এই ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে।
তবে একটা আশার আলোও আছে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে যদি তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল বাড়ে, তাহলে দাম কিছুটা কমতে পারে। বেশি লাভের আশায় রিফাইনারিগুলোও উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা কিছুটা স্বস্তির। কিন্তু ম্যাকিঞ্জি-র মতে, বিভিন্ন দেশ তাদের রিজার্ভ বাড়াতে ব্যস্ত। তাই ট্যাঙ্কার চলাচল স্বাভাবিক হলেও সাপ্লাই চেইন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানির দাম এবং 'ক্র্যাক স্প্রেড' দুটোই চড়া থাকবে।


