এর আগে এক মুসলিম যুবককে তাঁর নিজের 'দেশে' পাঠিয়ে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন তিনি সোশাল মিডিয়ায়। এবার তাঁর আক্রমণের নিশানায় একেবারে অনুরাগ কাশ্যপ। 'তিনি' আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

ভারতীয় চলচ্চিত্রে গ্যাংস অব ওয়াসেরপুর-এর মতো একের-পর-এক কাল্ট ফিল্ম তৈরির কৃতিত্ব যিনি অনায়াসেই ভরতে পারেন তাঁর ঝুলিতে, তাঁকেই কিনা বাবুল টুইটারে পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকটা 'হিট ছবি' বানিয়ে দেখানোর। বাবুল-এর কথায়, "আগে দু-তিনটে হিট ছবি তো বানান, তারপরে মোদির সমালোচনা করবেন"!

বাবুলের এই মন্তব্যে শুধু রাজনৈতিক মহলই নয়, বিস্মিত সিনেপ্রেমীরাও। যে অনুরাগ কাশ্যপ, ভারতীয় চলচ্চিত্রে রীতিমতো একটা ঘরানা তৈরি করলেন, তাঁকেই কিনা হিট ছবি তৈরি করে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে বাবুল সুপ্রিয়র-র কাছে!

আসলে জেএনইউ-কাণ্ডে যখন দৃশ্যতই কোণঠাসা গেরুয়া শিবির, বলিউডও আর মোদির পক্ষে ব্যাট করতে রাজি নয়, তখনই ঋজু মেরুদণ্ডের অনুরাগ কাশ্যপকে টুইটে আক্রমণ করে বাবুল কি কার্যত দলে নিজের নম্বর বাড়াতে চাইলেন? বাবুলের টুইটের পর থেকে অন্তত এমন প্রশ্নই ঘুরে-ফিরে আসছে নেটিজেনদের ওয়ালে। আবার কেউ কেউ বলছেন, জেএনইউতে গিয়ে ঐশী ঘোষ-সহ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দীপিকা পাডুকোনের  সমর্থন জানানো, আর তার পাল্টা হিসেবে  অভিনেত্রীর ছবি বয়কটের ডাক দিয়ে এখন রীতমতো বেকায়দায় গেরুয়াশিবির। পরিস্থিতি এই পর্যায়ে গিয়েছে যে, সোশাল মিডিয়ায় কট্টর মোদিভক্তরাও দীপিকাকে বয়কটের প্রশ্নে তাঁদের ক্ষোভ জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেও দেশে মোদি-বিরোধী প্রতিবাদের অন্যতম মুখ অনুরাগ কাশ্যপদের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। জেএনইউয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন দেশের তাবড় অ্যাকাডেমিশিয়ানরা। এই পরিস্থিতিতে জেএনইউয়ের পড়ুয়াদের মিছিলে বৃহস্পতিবার আবারও লাঠিচার্জ হয়েছে। জেএনইউয়ের আন্দোলনের সঙ্গে কার্যত মিশে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশজোড়া ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ। এমতাবস্থায়, নির্মলা সীতারমন থেকে শুরু করে এস জয়শঙ্করের মতো হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যখন জেএনইউয়ের ঘটনায় সরব, তখন দলে নিজের নম্বর বাড়াতে গিয়েই আগ বাড়িয়ে অনুরাগ কাশ্যপের মতো চলচ্চিত্র-ব্যক্তিত্বকে কার্যত 'বিলো দ্য বেল্ট' হিট করে বসলেন বাবুল সুপ্রিয়। টুইটে শুধু হিট ছবি বানানোর পরামর্শই নয়, সেইসঙ্গে কাশ্যপের উদ্দেশে বাবুলের অভিযোগ, ওই চলচ্চিত্রকারের জন্য অনেক প্রযোজকের পয়সা ডুবেছে, অনেক নবাগত অভিনেতা-অভিনেত্রীর কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাবুলের এই টুইটে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সিনেপ্রেমীরা। আর রাজনৈতিক মহলের মতে, রামমোহন-বিদ্যাসাগরের পর এবার অনুরাগ কাশ্যপকে নিয়ে এমন আলটপকা মন্তব্যের জন্য রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে বাবুলকেই।