ফের গণপিটুনিতে হত্য়ার ঘটনা ঘটল অসমে। সোমবার বাংলাদেশ থেকে ছয় সদস্যের এক গরু পাচারকারীর দল, অসমের সীমান্তবর্তী জেলা করিমগঞ্জে গরু চুরি করতে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। তাদেরই একজনকে ধরে ক্ষিপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে বলে জানা গিয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম রঞ্জিত মুন্ডা, বাড়ি বাংলাদেশের সোনারুপা টি এস্টটে। সোমবার রঞ্জিৎ মুন্ডা-সহ আরও পাঁচজন বাংলাদেশি আরও দুইজন ভারতীয়ের সাহায্যে বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৩ কিলোমিটার ভিতরে পুতনি টি এস্টেটে এসেছিল গরু চুরির উদ্দেশ্যে। এমনটাই অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসীরা অবশ্য টের পেয়ে যান। বাকিরা পালাতে পারলেও তাদের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিল ৪৩ বছরের রঞ্জিত। তাকে বেধড়ক প্রহার করে টি এস্টেটের বাসিন্দারা। সেখানেই মৃত্য়ু হয় ওই বাংলাদেশি নাগরিকের।

বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরুর পাচার দীর্ঘ কয়েকবছরের পুরোনো সমস্যা। সীমান্ত রক্ষণাবেক্ষণকারী বিএসএফ সদস্যদের হাতে প্রায়শই ধরা পড়ে যায় চোরাকারবারীরা। কিন্তু, তারপরেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। দুই দেশের মানুষই এই কারবারে যুক্ত।

শিলচর থেকে বিএসএফ-এর এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, অর্থাৎ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির কর্নকর্তাদের রঞ্জিৎ মুন্ডার মৃত্যুর বিষয়ে জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, তার নাম ঠিকানা যাচাই করে বিএসএফ-কে জানাবে তারা। তারপরই ওই বাংলাদেশী নাগরিকের দেহ তুলে দেওযা হবে বিজিবি-র হাতে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মে অসমের জোরহাট জেলার মারিয়ানি এলাকার কাছে গর্ভু হিল টি এস্টেটে সামান্য স্কুটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় দুই মহিলাকে ধাক্কা দেওয়ার পর অসমেরই নোকসারী জেলার বাসিন্দা দুই যুবককে প্রচন্ড প্রহার করেছিল টি এস্টেটে বাসিন্দারা। এক যুবক গুরুতর আঘাত নিয়ে বেঁচে গেলেও মৃত্যু হয়েছিল অপরজনের।