শুক্রবার, ভারতের নির্বাচন কমিশন বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে এই প্রথম ২৪৩টি বিধানসভা আসনের এত বড় নির্বাচন হতে চলেছে ভারতে। তবে, শুধু নিউ নর্মালের জন্যই নয়, আরও অনেক কারণেই এইবারের বিহারে ভোট ব্যতিক্রমী হতে চলেছে। এইবারের বিহারের ভোটে দেখা যেতে পারে নীতিশ কুমার বনাম বিজেপি-র মতো অদ্ভূত ঘটনাও।

না, বিহারে এনডিএ জোটের মধ্যে কোনও ভাঙন বা  ফাটল কিছুই ধরেনি। অন্তত বিজেপি এবং জেডি(ইউ)-এর মধ্যে  তো নয়ই। তবে তা সত্ত্বেও এইবারের বিহারের বিধানসবা ভোট শেষ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে নীতিশ কুমার বনাম বিজেপি। একটু পরিসংখ্য়ান এবং সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমের দিকে নজর রাখলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে।

প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক গতবারের অর্থাৎ ২০১৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান। ৮০টি আসনে জিতে বিহারের সবচেয়ে বড় দল হয়েছিল লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি। ৭১টি আসন নিয়ে তারপরই ছিল নীতিশ কুমারের জেডি(ইউ)। ৫৩টি আসন জিতে তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। তারপর ছিল কংগ্রেস (২৭), এলজেপি (২) এবং বাকি ১০টি আসনে জিতেছিল বাম, নির্দল ও অন্যান্য ছোট দলগুলি।

ভোট শেয়ারিং, অর্থাৎ মোট প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার যদি দেখা যায় তাহলে কিন্তু, পরিসংখ্যানটা অনেকটাই এদিক ওদিক হয়ে যাবে। ৮০টি আসন জেতা আরজেডি পেয়েছিল মাত্র ১৮ শতাংশ ভোট আর জেডি(ইউ) আরও কম, ১৭ শতাংশ। সেখানে, ৫৩টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকলেও বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ছিল ২৪ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি। এছাড়া কংগ্রেস ৭ শতাংশ, এলজেপি ৫ শতাংশ এবং অন্যান্যরা ২৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

মাথায় রাখতে হবে ২০১৫ সালের নির্বাচনের আগেই তৈরি হয়েছিল মহাগোটবন্ধন। অর্থাৎ, জে়ডি(ইউ), আরজেডি এবং কংগ্রেস একসঙ্গে লড়াই করেছিল। বিজেপির সঙ্গে ছিল এলজেপি ও আরও কয়েকটি ছোট দল। কাজেই বিজেপির প্রাপ্ত ভোটে নীতিশ কুমারের ভোট মিশে নেই। কাজেই এইবারের ভোটে এনডিএ-র মুখ্য দল হিসাবে কারা আত্মপ্রকাশ করে, সেই বিষয়টা অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে চলেছে।  

নীতিশ কুমার-এর নেতৃত্ব নিয়েও সম্প্রতি এনডিএ-র মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এলজেপি নেতা চিরাগ পাসওয়ান প্রকাশ্যেই বিহারে এনডিএ-র নেতা হিসাবে নীতিশ কুমার-এর বদলে অন্য কাউকে চেয়েছিলেন। বিহারের বিজেপি নেতাদের মধ্যেও কারোর কারোর মধ্যে নীতিশ কুমারকে নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলার মতো নীতিশ প্রশাসনের একসময়ের গর্বের বিষয়ই হোক কিংবা স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা, বেকারত্বের মতো সাম্প্রতিক বিষয় - নীতিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় তৈরি হচ্ছে।

অমিত শাহ অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এইবারের বিহারের নির্বাচনে, এনডিএ-র মুখ নীতিশ-ই। তবে আর কতদিন?

এর আগে মহারাষ্ট্রে দেখা গিয়েছে শিবসেনা-র সঙ্গে ছোট দল হিসেবে জোটে গিয়েছিল বিজেপি। পরবর্তীকালে বিজেপিই সেখানে মুখ্য দল হয়ে উঠেছিল। বিহারের নির্বাচনের গতবারের পরিসংখ্যান বলছে বিজেপি বেশ কিছু আসনে অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। এই বছর কংগ্রেস, বামদলগুলি আরজেডির সঙ্গে জোট বাঁধলেও, এখনও পর্যন্ত এনডিএ সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার মতো অবস্থানে তারা যেতে পারেনি। কাজেই এইবারের বিহারের ভোট শেষ পর্যন্ত দুই জোটসঙ্গীর ঠান্ডা প্রতিযোগিতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।