বিহারে প্রথম দফা ভোটের প্রচার পর্ব শেষ হতে না হতেই তাঁর দ্বিতীয় দফার প্রচার শুরু করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর দ্বিতীয় দফার শুরুতেই তিনি খেললেন অযোধ্যার রামমন্দির থেকে বিরোধীদের 'জঙ্গলরাজ', উন্নয়নের অর্থ আত্মসাতের তাস।

শুরু হয়ে গিয়েছে মন্দির নির্মাণ

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারভাঙার রাজ ময়দানে আয়োজিত এক সমাবেশ ভাষণ দিতে গিয়ে তুলে আনেন রাম মন্দির নির্মাণ শুরুর প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, সীতামা-এর জন্মস্থানে এসে তিনি আনন্দিত। অযোধ্যাতে মন্দির নির্মাণও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরোধীরা কবে মন্দির নির্মাণ শুরু হবে সেই প্রশ্ন করে কটাক্ষ করতেন। তাঁরা এখন প্রশংসায় করতালি দিতে বাধ্য হয়েছে।

চাই না জঙ্গলরাজ

আরজেডিকে আক্রমণ করে বিহারে এর আগে জঙ্গলে রাজত্ব চালানোর অভিযোগ করেন নরেন্দ্র মোদী। বিহারের মানুষ সেই জঙ্গলরাজের বাহিনীকে পরাজিত করতে সংকল্পবদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিহার-এর উন্নয়েনর অর্থ লুন্ঠন, যুব সমাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা, ঋণ মকুবের ছলনায় আর্থিক কেলেঙ্কারি, ঘুস খাওয়ার অভিযোগ করেও এদিন বিরোধী পক্ষকে বিদ্ধ করেন মোদী।

এনডিএ মানে উন্নয়ন

এর, পাশাপাশি তুলে ধরেন উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্যাস, দরিদ্রকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিত্সা দান, ৪০ কোটিরও বেশি দরিদ্রের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার মতো এনডিএ-র উন্নয়নমূলক কাজের তালিকা। তাঁর দাবি বর্তমানে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ সাহায্য ৪০ কোটিরও বেশি দরিদ্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি কোষি মহাসেতুর কথাও উল্লেখ করেন। এরফলে আট ঘণ্টার যাত্রাপথ মাত্র আধঘন্টায় নেমে এসেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে এদিনের জনসভায় বিহারবাসীর মনে পান-মাছ-মাখন শিল্পকে কেন্দ্র করে আত্মনির্ভর ভারত গঠনের স্বপ্ন বুনেছেন তিনি।

'ভাবি মুখ্যমন্ত্রী'

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডি (ইউ) নেতা নীতিশ কুমার। মঞ্চ থেকে তাঁকেই 'ভাবি মুখ্যমন্ত্রী' বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।  বিহারের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের যাবতীয় কৃতিত্ব নীতিশ কুমারকেই দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।